আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৪

‘বিদায়’ বলতেও বাংলাদেশে আসবেন না হাথুরুসিংহে

অনলাইন ডেস্ক
‘বিদায়’ বলতেও বাংলাদেশে আসবেন না হাথুরুসিংহে

চন্ডিকা হাথুরুসিংহের আশা তাহলে ছেড়েই দিয়েছে বিসিবি! তাঁকে কোচ হিসেবে পাওয়ার আশা তো বটেই, হাথুরুসিংহে অন্তত আরেকবার বাংলাদেশে আসবেন, সে আশাও। শ্রীলঙ্কান এই কোচের দিক থেকে পাওয়া সর্বশেষ আভাস নাকি সে রকমই। ‘বিদায়’ বলতেও বাংলাদেশে আসতে চান না হাথুরুসিংহে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে কোচের প্রতিবেদন, তিনি কী কারণে হঠাৎ দায়িত্ব ছাড়লেন—এসব তাই তাঁর কাছ থেকে সামনাসামনি জানার সম্ভাবনা এখন সামান্যই।

হাথুরুসিংহে আর বাংলাদেশের কোচ থাকছেন না, সেটি আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা মোটামুটি পাকা। কিন্তু বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছিলেন, ১৫ নভেম্বরের পর হাথুরুসিংহে ঢাকায় আসবেন। তাঁর পদত্যাগের বিস্তারিত কারণ জানা যাবে তখনই। এখন বিসিবিও সে আশা আর করছে না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘হাথুরুসিংহে অধ্যায়’ শেষ বলেই ধরে নিচ্ছে তারা। অবশ্য মিরপুরে বিসিবি সভাপতি কালও বলেছেন, হাথুরুসিংহে নাকি আরও কিছুদিন পর বাংলাদেশে আসবেন বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীকে।

নতুন কোচ কে হচ্ছেন, প্রশ্নটা প্রাসঙ্গিকভাবেই আসে। তবে সে প্রশ্নের উত্তর এখনো জানা নেই বোর্ডের। সূত্র জানিয়েছে, নতুন কোচ খোঁজার যে সংক্ষিপ্ত তালিকা, সেটিও নাকি এখনো তৈরি হয়নি। আপাতত বোর্ডের পরিকল্পনা, শ্রীলঙ্কা সিরিজটা স্থানীয় কোনো অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দিয়ে চালানো। দায়িত্বটা পেতে পারেন বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ। এর আগে জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে বিপিএলের দল ঢাকা ডায়নামাইটসের এই কোচের। সংবাদমাধ্যমে মাহমুদও বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পেলে তিনি তা নিতে প্রস্তুত। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কথায়ও মিলল এরই আভাস, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজ শুরু হওয়ার আগে আমরা যদি বাইরের কোচ না আনি, তাহলে অবশ্যই স্থানীয় কেউ কোচ হবে। খালেদ মাহমুদ (সুজন) আছে। তার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।’

হাথুরুসিংহের জন্য আর অপেক্ষা না করলেও বিসিবি অপেক্ষায় আছে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে তাঁর রিপোর্ট এবং তাঁর পদতাগের কারণ জানার জন্য। বোর্ড সভাপতির কথা, ‘হাথুরুসিংহের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি না। অপেক্ষা করছি তার রিপোর্টের জন্য।’ বিসিবি ধরে নিচ্ছে, বিদায়ী কোচের এই রিপোর্টটাই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের ব্যর্থতার ‘ব্ল্যাক বক্স’। সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর কোনো মনোমালিন্য হয়ে থাকলে, সেটির কথাও নিশ্চয়ই উল্লেখ থাকবে রিপোর্টে। বিসিবিকে নাকি আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়েছেন হাথুরুসিংহে।

কোচের পদত্যাগের পেছনে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে মনোমালিন্য একটা কারণ হতে পারে, এমন ধারণার কথা এর আগে বিসিবি সভাপতিও বলেছিলেন। খেলোয়াড়েরা কোচের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন বলে হাথুরুর অনুযোগের কথাও। কিন্তু কাল যেন একটু অবস্থান বদলালেন নাজমুল হাসান।

প্রথমে বলেছেন, সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাথুরুসিংহের মনোমালিন্য ছিল কি না, সেটি কোচের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে বলতে পারবেন না। পরে আবার বলেছেন, ‘সমস্যা আছে (কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের), এটা মিডিয়াতেই বেশি আসত। আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি বলব, গত কয়েক বছরে আমি কোনো সমস্যাই দেখিনি। সিনিয়র খেলোয়াড় বলতে আমরা পাঁচজনকে ধরি। মাশরাফি-তামিম-সাকিবের কাছে কখনোই শুনিনি, সমস্যা আছে। রিয়াদের তো কারও সঙ্গেই সমস্যা নেই। একটাই থাকতে পারে, যেহেতু মুশফিকের কয়েকটা মন্তব্য নিয়ে কিছু কথা হয়েছে। তারপরও আমার মনে হয়, কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

ইউএসএইডের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার অনুষ্ঠানে কাল মাহমুদউল্লাহও বলেছেন একই কথা, ‘একটা বিষয়ে আমি পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করি যে, সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে ওনার সম্পর্ক ভালো ছিল না। আমার মনে হয় জিনিসটা ঠিক না। ওনার সঙ্গে সম্পর্ক সবার সব সময় ভালো ছিল। আমার উন্নতির পেছনে ওনার বড় অবদান ছিল।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে