আপডেট : ১৯ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:১৯

ডাকসাইটে ফাস্ট বোলারের ভয়ঙ্কর জেল অভিজ্ঞতা!

অনলাইন ডেস্ক
ডাকসাইটে ফাস্ট বোলারের ভয়ঙ্কর জেল অভিজ্ঞতা!

এক সময়ের ডাকসাইটে ফাস্ট বোলার ফ্রাঙ্কলিন রোজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট খেলেছেন কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যামব্রোসদের সাথে। কিন্তু খুব বেশি এগোতে পারেননি। ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখেছেন নিউজিল্যান্ডে। সেখানে অবৈধভাবে বসবাসের জন্য নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড়মাস জেলে রাখে এই সাবেক ক্রিকেটারকে। এরপর এই মাসের শুরুতে তার দেশ জ্যামাইকায় পাঠিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডে বর্ণবাদী হামলার কারণে জীবন সংশয়ে পড়েছিলেন রোজ। এখনো সুস্থ্য হতে পারেননি। দেশটির জেলে কাটানো মর্মান্তিক কাহিনীও এই প্রথম খুলে বললেন ৪৪ বছরের রোজ।

২০১০ সালে ক্লাব পর্যায়ের কোচিংয়ের চাকরী নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পা রাখেন রোজ। দুই বছর পর চুক্তি শেষ হয়। এর মধ্যে ২০১২ সালে বর্ণবাদী হামলার শিকার হন রোজ। তাতেই জীবনটা কঠিন হয়ে ওঠে। চারজন ককেশীয় তাকে হামলা করে, মারধোর করে, গাড়ি কেড়ে নেয়, হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। সাবেক ক্রিকেটার স্থানীয় হাসপাতালে তিনদিন আইসিইউতে ছিলেন। তার নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়, ফুসফুসে রক্ত জমাট বাধে। অসহ্য ব্যথা। কিন্তু তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলা হয় তাকে। এরপর আবার হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসা পাননি। পরে প্রাইভেট হাসপাতালে যান। যেখানে দিনে ১৫০০ ডলার দিতে হয়। এটা রোজের জন্য ছিল কঠিন।

চিকিৎসা চলে। কিন্তু পুরো সুস্থ্য আর হতে পারেন না রোজ। তখন চিকিৎসকরা জানান, তার বিমানভ্রমণ নিষেধ। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও চিকিৎসার জন্য এবং বিমানে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশ জ্যামাইকাতে ফিরতে পারছিলেন না রোজ। আরো দুই বছর কেটে যায়। চিকিৎসা নিতে নিতে একটু সুস্থ্য হন। কিন্তু ওষুধ চলতে থাকে।

এক সকালে বাড়িতে পুলিশ আসে। তার ইমিগ্রেশন সম্পর্কে জানতে চায়। অসুস্থতা ও সার্বিক অবস্থা বুঝিয়ে বলেন রোজ। ডকুমেন্ট দেখান। প্রতি সপ্তাহে এরপর পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট করতে হয় রোজকে। আট সপ্তাহ আগ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। একদিন ভোরে তার বাসায় পুলিশ এসে তাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। বলা হয়, তার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আছে। এরপর জেলে ছুড়ে দেয়া হয় তাকে।

জেলের জীবন যে কতো ভয়াবহ হতে পারে তা মনে করে শিউরে ওঠেন রোজ। সেখানে প্রথম ১০দিন কাটে খুনি, ধর্ষক ও অন্যান্য সাজাপ্রাপ্তদের সাথে। গোসল করার সুযোগ ছিল না। দাত ব্রাশ করতে পারতেন না। ওষুধ খেতে পারতেন না। রোজ ভেঙ্গে পড়েন। এরপর আদালতে নিয়ে আবার বলা হয় বিমান পাওয়া যাচ্ছে না। আবার জেলে ফিরতে হয় রোজকে। আরো ভয়াবহ ২৮ দিন। একদিন গোসলের সুযোগ পেলেন। কিন্তু ৫ মিনিট পর পানি বন্ধ হয়ে যায় জানতেন না রোজ। শরীরে সাবান লাগিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত টয়লেটের পানি দিয়ে শরীর পরিস্কার করতে বাধ্য হন। ত্বকের সমস্যা হলেও চিকিৎসা পাননি। ৩৮ দিন জেলে রাখার পর শেষ পর্যন্ত তাকে কড়া পাহারায় বিমানে নিয়ে তোলা হয়। দেশে ফিরলেও রোজকে তাড়া করছে এই দুঃসহ স্মৃতি।

উপরে