আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৫:২৫

কোহলির এক অনবদ্য ইনিংসের গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক
কোহলির এক অনবদ্য ইনিংসের গল্প

দিনটা ছিল ১৮ ডিসেম্বর। দশ বছর আগের ঘটনা। প্রতিদিনের মতো ক্রিকেটপাগল ছেলেটা সে দিনও মাঠে এসেছিল তার ক্রিকেট ব্যাগটি কাঁধে নিয়ে। কিন্তু আর দশটা দিনের থেকে সেই দিনটি অনেক আলাদা। সে দিনই ভোররাতে তার বাবা প্রেম কোহলি মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মারা গিয়েছেন। শোকাহত ১৮ বছরের ছেলেটি কঠিন দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে সে দিনই নিজের জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়েছিল। পরলোকগত পিতার নিথর শরীর রেখে সে ফিরোজ শাহ কোটলার মাঠে তার ক্রিকেট ব্যাগটি নিয়ে ছুটে গিয়েছিল।

দিল্লি বনাম কর্নাটকের রঞ্জি ট্রফির খেলা চলছিল। ঘরের মাঠে দিল্লির সে দিন ফলো-অন বাঁচিয়ে ম্যাচে টিকে থাকার এক কঠিন লড়াই ছিল। আগের দিনের খেলার শেষে দিল্লির শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান যুগল ক্রিজে অপরাজিত ছিল। ১৮ বছরের নবাগত ব্যাটসম্যানটি ৪০ রানে ব্যাটিং করছিল এবং সেই দলের শেষ ভরসা ছিল। কিন্তু সকাল সকাল দিল্লি দল তাদের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের পিতৃবিয়োগের দুঃসংবাদটা পেয়ে যায়। দলের পক্ষ থেকে তাই শোকজ্ঞাপন করা হয় এবং তাকে এই কঠিন সময়ে ক্রিকেট ভুলে পরিবারের সঙ্গে থাকতে বলা হয়। সেই কারণে সকালবেলা মাঠে এসেই কোচ, প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার চেতন চৌহান চেতন্য নন্দাকে প্যাড পরে মাঠে নামার জন্যে তৈরি হতে বলেন। কিন্তু সেই দিনের খেলা শুরুর ঠিক আগে ছেলেটিকে ড্রেসিংরুমে দেখে সকলেই চমকে যায়। দলের সকলের বারণ সত্ত্বেও সে পণ করেছে যে, দলের জন্যে মাঠে নেমে সে আজ নিজের অসম্পূর্ণ ইনিংসটা এগিয়ে নিয়ে যাবে। সে দলকে বিপন্মুক্ত করতে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে চায়। সবাই তাকে বোঝায় যে, আজ তার পরিবারের সঙ্গে থাকার দিন, মাঠে নয়। কিন্তু অবশেষে দৃঢ়সংকল্প ছেলেটির জেদের কাছে সকলকে মাথা নোয়াতে হয়।

যথারীতি দিনের শুরুতে মাঠে উপস্থিত সকলকে বাকরুদ্ধ করে ১৮ বছরের ছেলেটি ক্রিজে পৌঁছে গার্ড নেয়। পিতৃবিয়োগের চরম যন্ত্রণা ভুলে দাঁতে দাঁত চেপে সে একের পর এক বল খেলতে থাকে। ইস্পাতকঠিন মানসিকতা এবং হিমশীতল স্নায়ুর পরিচয় দিয়ে সে দলের স্কোরকে সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে দেয়। কিন্তু লাঞ্চের মাত্র কিছুক্ষণ আগে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে ৯০ রানের ব্যক্তিগত স্কোরে সে একটি ভুল আম্পায়ারিং-এর শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়। কিন্তু ততক্ষণে দিল্লি ম্যাচটি প্রায় বাঁচিয়ে ফেলেছে। ড্রেসিংরুমে ফিরে সে কিছুক্ষণ তার আউট হওয়ার বলটির রিপ্লে দেখে আশ্বস্ত হয় যে, সে আউট ছিলোনা। কিন্তু পরমুহূর্তেই সে প্যাড গ্লাভস খুলে কিট ব্যাগটি প্যাক করে দলের কাছে বাড়ি ফেরার অনুমতি নেয়। ২-৩ ঘণ্টা পরেই সে তার বাবার মরদেহ শ্মশানে নিয়ে গিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে। ঘড়িতে তখন সময় সাড়ে তিনটে। ক্রিকেটার বিরাট কোহলী তখন এক সদ্যপিতৃহারা সন্তান। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব হঠাৎ করে তাঁর কাঁধে এসে পড়েছিল। দিল্লি নয়, আজ দশ বছর পরে ভারতীয় দলকে জেতানোর গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধেই এসে পড়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে আজও তিনি সমানভাবেই সক্ষম। (সূত্র:এবেলা)

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

 

 

উপরে