আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৫০

আবারো মাহমুদউল্লাহ অনন্ত কষ্টের মধ্যমনি

স্পোর্টস ডেস্ক
আবারো মাহমুদউল্লাহ অনন্ত কষ্টের মধ্যমনি

এখন আর একটিই নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের হৃদয় ভাঙ্গার গল্প বর্তমানে একাধিক। এতদিন ২০১২-র এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের হারে শিরোপা স্বপ্ন বিলীন হওয়ার কষ্টের কথাই শোনা গেছে শুধু। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বের ম্যাচে ভারতের মাটিতে তাঁদের বিপক্ষে জয় নাগালে এসে যাওয়ার পরও তা হাতছাড়া হওয়ার গল্পও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল। দুটো আলাদা গল্প কিন্তু, কষ্টকর গল্পের শেষটা লেখা হয়েছে একজনের হাতেই। আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনন্ত সেই কষ্ট দুটোর মধ্যমনিও অভিন্ন ব্যক্তি। তিনি মাহমুদ উল্লাহ।

দুটো ঘটনার মধ্যে পার্থক্য ঠিক চার বছর এক দিনের। এশিয়া কাপ ফাইনাল হয়েছিল ২০১২-র ২২ মার্চ। একইরকমভাবে আবার জয়ের তীর থেকে ভগ্ন হৃদয়ে ফিরে আসার দুঃস্বপ্নের উঁকি দিয়ে যাওয়া ২০১৬-র ২৩ মার্চ।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের ২৩৬ রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশের শেষ ওভারে জেতার জন্য দরকার ছিল ৯ রানের। কিন্তু বাংলাদেশ তুলতে পেরেছিল ৬ রান। এর মধ্যে ৪ রান এসেছিল ১৬ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত মাহমুদ উল্লাহর ব্যাট থেকে। বাকি দুটো রান এসেছিল লেগ বাই থেকে। ওভারের পঞ্চম বলে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক আউট হওয়ার পর শেষ বলে স্ট্রাইকে ছিলেন পেসার শাহাদাত হোসেন। দরকার ছিল ৪ রানের। নন স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া যেন আর কিছুই করার ছিল না সেবার মাহমুদ উল্লাহর।

এবার সেই তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায়ই ছিলেন গত কিছুদিন ধরেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এ ব্যাটসম্যান। কারণ এবার অন্তত দলের জয় ভাগ্য লেখার কাজটি নিজের হাতেই ছিল তাঁর। বিশেষ করে ৩ বলে যখন ২ রান দরকার, তখন সুনীল গাভাস্কারের ভাষায় ‘গ্ল্যামার শট’ খেলে মুশফিকুর রহিম ক্যাচ দিয়ে আসার পর মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটেই ভর করেছিল গোটা জাতির জয়ের স্বপ্ন। এই আসরে তাঁর যা ফর্ম, তাতে তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করবেন বলেই আশায় ছিল সবাই। কিন্তু সেই আশা হতাশায় রূপ দিয়ে দিলেন তিনিই। নীচে খেলে সিঙ্গেল বা ডাবল নেওয়ার চেষ্টার বদলে লো ফুল টস বলে তিনিও মুশফিকের মতোই তুলে মারতে গেলেন। এবং ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরার সময় ২২ বলে ১৮ রান করা এ ব্যাটসম্যানকে যেন ‘কষ্টের ফেরিওয়ালা’র মতোই দেখাচ্ছিল। চার বছরের ব্যবধানে দুইবার তিনি জয়ের নায়ক হওয়ার বদলে খলনায়ক!

উপরে