আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪২

হারানোর শোকই যেন শক্তি বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
হারানোর শোকই যেন শক্তি বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বের গুরুত্বপূর্ন ম্যাচের আগে বাংলাদেশ শিবিরে কান্নার রং। যে রং ছড়িয়ে দিয়েছে ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের ওপর নেমে আসা নিষেধাজ্ঞার খড়গ। যা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না দল। আর সেই মেনে নিতে না পারার ক্ষোভের বিস্ফোরণও রোববার বেঙ্গালুরুর চিন্নাসোয়ামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ঘটিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক এটিকে স্পষ্ট ভাষায় তাসকিনের প্রতি ‘অবিচার’ বলেও মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তবু অশ্রু আগলে রেখেছেন কোনোমতে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে শেষ হতেই বেরিয়ে যেতে থাকা মাশরাফি কান্না আর সামলাতে পারেননি। এতেই পরিষ্কার যে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে তাসকিনের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা কতটা ব্যথাতুর করে রেখেছে বাংলাদেশ শিবিরকে।

পাকিস্তানের কাছে কলকাতায় হার দিয়ে সুপার টেন পর্ব শুরুর পর এটি এক অর্থে বাঁচা-মরার ম্যাচও হয়ে উঠেছে। সেটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে শুরু করা অস্ট্রেলিয়ার জন্যও তো এটি ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। এই ম্যাচে জিততে তারাও মরিয়া হয়ে থাকবে। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ শিবিরে এমন বিষাদের ছাপ পড়ে গেছে যে সেটি তুলে ম্যাচ ভাবনায় ডুব দেওয়া কঠিন বলেও স্বীকার করেছেন খোদ মাশরাফিই, ‘নিজের জীবন দিয়ে আমি অনেক কিছু দেখেছি। আমার ক্ষেত্রে হয়ত এমন কিছু হলে মেনে নেওয়া সহজ হত। কিন্তু যে ছেলেটার কথা হচ্ছে, তাঁর বয়স খুবই কম। সে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারও। (আরাফাত) সানিও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যতই বলি এসব ভুলে মাঠে নামব, মাথায় তবু থেকেই যায়।’

তবু হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে জ্বলে ওঠার তাড়নাও লক্ষ্য করা গেছে মাশরাফিদের মধ্যে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে সেটি আশার দিকও। যে ম্যাচটি আবার অধিনায়ক মাশরাফির ৫০-তম ম্যাচও। এমন মাইলফলকের ম্যাচের আগে তাই তাঁর মুখে এমন কথাও শোনা গেছে যে, ‘যেই খেলুক, আমরা অবশ্যই জয়ের জন্য মাঠে নামব। প্রথম কাজই হবে জয়ের চেষ্টা করা। একটা দল হয়ে মাঠে নেমে সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। দল এখন মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই, এটা সবাই বুঝতে পারছেন। কিন্তু আমরা অবশ্যই মাঠে ততটুকু স্পিরিট নিয়েই নামব, যতটা নিয়ে নেমেছিলাম আগের ম্যাচে।’

আর মানসিকভাবে দল ভালো অবস্থায় না থাকার পরেও কিভাবে সতীর্থদের চাঙ্গা করা যায়, সেটি মাশরাফির চেয়ে ভালো কে-ইবা জানেন! ২০০৭ বিশ্বকাপের ভারত ম্যাচের কথা মনে নেই? আগের দিনই সড়ক দূর্ঘটনায় ক্রিকেটার মাঞ্জারুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ শোকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছিল পুরো দলকেই। বিশেষ করে প্রিয় বন্ধু হারানোর শোকটা বেশি ছিল মাশরাফিরই। সেই তিনি শোককে শক্তিতে পরিণত করে হয়েছিলেন ভারতকে হারানোর নায়ক। ম্যাচ সেরা মাশরাফির দিনে উজ্জীবিত পারফরম্যান্স ছিল তাঁর সতীর্থদেরও। এবার নিষেধাজ্ঞায় তাসকিনকে হারানোর শোককেও সেভাবেই শক্তিতে পরিণত করুন না মাশরাফিরা। সামনে থেকে পথ দেখানোর জন্য তিনি নিজে তো আছেনই!

উপরে