আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫৯

‘জোড়া আঘাত’ ধারণার বাইরে ছিল বাংলাদেশ দলের

স্পোর্টস ডেস্ক
‘জোড়া আঘাত’ ধারণার বাইরে ছিল বাংলাদেশ দলের

দু’জনের ক্ষেত্রেই নিঃসংশয় ছিল বাংলাদেশ শিবির। বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির অ্যাকশন নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ থাকলেও তা একদমই ছিল না ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের ক্ষেত্রে। বরং এ তরুণ পেসারের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বাংলাদেশ দল উচ্ছাসিত থাকলেও আরাফাতের ক্ষেত্রে নীরবতাই অবলম্বন করে এসেছে। কারণ এ স্পিনার যে কোনো সময়ই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারেন, সেরকম মানসিক প্রস্তুতিও অনেক দিন থেকেই নিয়ে রাখা আছে দলের। তাই তাঁর অ্যাকশনের পরীক্ষায় অবৈধ প্রমাণিত হয়ে নিষিদ্ধ হওয়াটা মাশরাফি বিন মর্তুজার দলকে মোটেও অপ্রস্তুত করে দেয়নি।

কিন্তু ১৯ মার্চ দিনটি যে বাংলাদেশ দলের জন্য এমন ‘কালো দিন’ হয়ে উঠবে, সেটিইবা কে জানত! একই দিনে তাসকিনের নিষিদ্ধ হওয়াটা জোড়া আঘাতই হেনেছে। কিন্তু দ্বিতীয় এ আঘাতটি ধারণার বাইরেই ছিল টাইগারদের। ধারণার বাইরে ছিল কারণ বাংলাদেশ দল সেই শুরু থেকে বিশ্বাস করে এসেছে যে তাসকিনের অ্যাকশনে কোনো সমস্যাই নেই।

গত ৯ মার্চ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের পরই আম্পায়াররা সানির পাশাপাশি তাসকিনের অ্যাকশন নিয়েও প্রশ্ন তোলার পর সেই বিশ্বাস আরো গভীর হওয়ার কারণ হিথ স্ট্রিক। ইতিহাস বলে, বাংলাদেশ দলের এ পেস বোলিং কোচ কারো অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহমুক্ত থাকলে সেটি শেষপর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হয়ই হয়। এর আগেও আছে এমন উদাহরণ।

২০১৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের কথাই ধরা যাক। সেই সফরের শুরুতে ছিল ওয়ানডে সিরিজ। আর সেই সিরিজে অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল অফস্পিনার সোহাগ গাজীর। স্ট্রিক তো আর স্পিন বোলিং কোচ নন যে স্পিনারদের অ্যাকশন নিয়ে খুব উচ্চবাচ্য করবেন! সোহাগের ক্ষেত্রে করেনওনি। কিন্তু একই সফরের সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টের পর পেসার আল-আমিন হোসেনের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ফুঁসে উঠেছিলেন জিম্বাবুয়ের সাবেক এ অধিনায়ক। আরেকবার এ পেসারের অ্যাকশনের ফুটেজ দেখে বলেই দিয়েছিলেন যে পরীক্ষায় আল-আমিনের অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ অমূলকই প্রমাণিত হবে। পরীক্ষাগারে সোহাগের অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হলেও ঠিকই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছিলেন আল-আমিন।

পেছনে এমন উদাহরণ থাকায় তাসকিনকে নিয়েও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। কারণ এই সেদিন ধর্মশালায় স্ট্রিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেন যে বারবার তাসকিনের অ্যাকশনের ভিডিও ফুটেজ দেখেও তাঁর খোলা চোখে কোনো ত্র“টি ধরা পড়েনি। আল-আমিনের কারণে তাঁর খোলা চোখেও সবাই আস্থা রাখছিলেন। তবে অনাস্থা ছিল সানিকে নিয়ে। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া এ বাঁহাতি স্পিনারের অ্যাকশনের ত্রুটি তো অজানা ছিল না দলেরও। তাই তাঁকে হারালেও তাসকিনের ইতিবাচক ফল শোনার আশায়ই তাঁরা ব্যাকুল ছিল। সেই ব্যাকুলতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলেন হিথ স্ট্রিকও। কিন্তু বোলিং কোচের সুবাদে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বাসও ভেঙ্গে দিয়ে আইসিসি দিল দুটো দুঃসংবাদ। যে জোড়া আঘাত বাংলাদেশ দলের ধারণার বাইরেই ছিল।

উপরে