আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৩৭

ভারত-পাকিস্তান লড়াই! কে ফেভারিট?

আতিক হাসান
ভারত-পাকিস্তান লড়াই! কে ফেভারিট?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ক্রিকেট বিশ্বের এই আকর্ষণীয় লড়াই আজ বিরল হয়ে পড়েছে। বৈশ্বয়িক টুর্নামেন্টের কারণে বছরে দুই একবার দেখার সুযোগ পাচ্ছে ক্রিকেট প্রেমীরা। তাইতো এই ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের শেষ নেই। ম্যাচের কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে ম্যাচ নিয়ে কথার লড়াই।

দুই দেশের ক্রিকেট লড়াই শুধু যে মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। মাঠ ছাড়িয়ে এটি ছড়িয়ে বিশ্বের আনাচে কানাচে থাকা ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকের মধ্যে। শুধু তাই নয়, এটি তাতিয়ে তোলে বিশ্বের সব ক্রিকেট প্রেমিকদের।

বিশ্বকাপের এ ম্যাচটি যদি দুই দলের প্রথম ম্যাচ হতো তাহলে নিঃসন্দেহে এ লড়াইয়ে ভারত ফেভারিট থাকতো। ভারতের পক্ষে বাজি ধরার লোকের অভাব হতো না। অন্যদিকে পাকিস্তানকে সমর্থন দিলেও তাদের গলার জোরটা সেই আকারে থাকতো না। কিন্তু এটি উভয় দলের দ্বিতীয় ম্যাচ। আর তাতেই অনেক হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে।

দিন কয়েক আগে শেষ হলো এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি আসর। এ আসরের শিরোপা জেতা ভারতের টগবগে মেজাজে থাকার কথা। তার ওপর বিশ্বকাপের আসর যখন তখন অতীত পরিসংখ্যানে তো তাদের উৎফুল্ল হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের কোনো আসরেই পাকিস্তানের কাছে কখনো হারেনি ভারত। সে বিচারে স্বাগতিক দলটিরই ফেভারিট থাকাটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম আসরে নিউজিল্যান্ডের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে ভারত। আর তাতেই ভারতের শরীর থেকে ‘ফেভারিট’ তকমাটা অনেকটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বোলিংয়ে ভারতের মূল শক্তি হচ্ছে স্পিন ডিপার্টমেন্ট।নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা সেই স্পিন বোলিংয়ে সাবলীলভাবে খেলেছে। স্পিনারদের নাকানি চুবানি খাইয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছে। আর যে স্পিন আক্রমণকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সাদরে আমন্ত্রণ জানায়, নিউজিল্যান্ডের সেই স্পিন তাদের জন্য বিষ হয়ে দেখা দিয়েছিল। সব মিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক ভারত মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের।

অন্য দিকে এশিয়া কাপ তো বটেই তার আগে থেকে নাজুক অবস্থা পাকিস্তানের। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের কাছেও হেরেছিল তারা। বিশ্বকাপে সেই বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম জয়ে ফুরফুরে অবস্থায় শহীদ আফ্রিদিরা। ব্যাটসম্যানরা যেমন তেমন বোলাররা ফর্মে ফেরারও ইঙ্গিত দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ভারতের বোলিং ডিপার্টমেন্ট থেকে পাকিস্তানের বোলিং অনেক শক্তিশালী। তিন পেসার মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ ইরফান। এই তিন পেসারের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়ানোটাই কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে পাকিস্তান পিছিয়ে তা কিন্ত নয়। এশিয়া কাপে ব্যর্থ হলেও দলে কিছু পরিবর্তন এনে সেই দুর্বলতাটাও দূর করেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে তার প্রমাণও দিয়েছে। বোলিংয়ে পাকিস্তান একটু এগিয়ে থাকলেও ব্যাটিংয়ে ভারত টেক্কা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের দারুণ এক লড়াই অপেক্ষা করছে।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এটি ক্রিকেট। এমনিতেই অনিশ্চয়তার খেলা। তার ওপর টি-টোয়েন্টি মানে আরো বেশি অনিশ্চয়তা। আর এটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। তাইতো এ ম্যাচের আগে কাউকে পরিস্কার ফেভারিট বলাটা খুবই কঠিন। একটি দুটি ওভার নয়, মাত্র একটি বা দুটি বলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সে কারণে এ ম্যাচ নিয়ে আগে ভাগে কিছু বলার মতো বোকামি করাটা ঠিক নয়। তবে আপনি যদি বাজিকর হয় তাহলে একটা ঝুঁকি তো নিতেই হবে।

উপরে