আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৩৪

টসে কেন জিতি না!

আনিসুল হক
টসে কেন জিতি না!

এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়নরা হেরেছে আগের দিন, পরের দিন হারল রানার্সআপ দল। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, সেটা যেমন সত্য, তেমনি লাল-সবুজরা হেরে গেলে আমরা কষ্ট পাব, সেটাও সত্য। খেলা খেলাই। এটা দুনিয়ার শেষ নয়। তবে একটা আফসোস যাচ্ছে না, আমরা টসে কেন একবারও জিতি না! এটা নিয়তির নির্মম পরিহাস ছাড়া আর কী। গতকাল ইডেনে বাংলাদেশ দল যদি আগে ব্যাট করত, তাহলে নিশ্চিত ১৬০-এর বেশি রান পেত, আর তখন খেলাটাও হয়ে উঠতে পারত উপভোগ্য।
গতকালের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দর্শনীয় মুহূর্ত ছিল সৌম্যর ক্যাচটি। এটা হয়তো এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর ক্যাচ হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখবে। সাকিবের ৫০টাকেও আমরা উদ্যাপন করব। আমি কোনো দিনও খেলার কলাকৌশল নিয়ে কোনো কথা বলি না। কারণ, ওটা বিশেষজ্ঞদের কাজ, খেলা জিনিসটা লেখকের চেয়ে খেলোয়াড়-কোচরা অনেক ভালো বোঝেন। তাঁরা নিশ্চয়ই সবচেয়ে ভালোটা করারই চেষ্টা করবেন। আমরা শুধু বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বলব, তোমরা আমাদের প্রার্থনায় আছ, আমাদের শুভকামনা সব সময়ই আছে তোমাদের জন্য। তোমরা বিশ্বাস রেখো যে তোমরা পারবে। দেয়ার ক্যান বি মিরাকলস হোয়েন ইউ বিলিভ। তোমরা এশিয়া কাপে হারিয়েছ পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কাকে, তোমরা নিউজিল্যান্ডকে এক দিনের ম্যাচে ধবলধোলাই করেছ দুবার। আশা ছেড়ো না, মনোবল হারিয়ো না, নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করো, ফল যা-ই হোক না কেন, আমরা তোমাদের পাশে আছি।
আজকে বরং দুটো সাক্ষাৎকারের দিকে তাকাই। একটা সাকিব আল হাসানের। প্রকাশিত হয়েছে ১৬ মার্চ ২০১৬। প্রশ্ন ছিল, ‘কী করলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করেছে বলা যাবে।’ সাকিবের উত্তর: ‘যদি সেমিফাইনাল উঠি, খুব ভালো। দুটি ম্যাচ জিততে পারলেও ভালোই বলব। একটা জিতলেও।’ সাকিবের সঙ্গে একমত না হওয়ার কারণ দেখি না। সাকিব নিজেও বলেছেন, তাঁরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্যই নামবেন। তারপরও বাস্তবতার মাটিতে পা রেখেই বোধ হয় আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে।
দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি বেরিয়েছে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বই, বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত মাশরাফিতে। ওই বইয়ে প্রকাশিত মাশরাফির সাক্ষাৎকারের প্রতিটি লাইন উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘এই যারা ক্রিকেটে দেশপ্রেম দেশপ্রেম বলে চিৎকার করে, এরা সবাই যদি একদিন রাস্তায় কলার খোসা ফেলা বন্ধ করত, একটা দিন রাস্তায় থুতু না ফেলত বা একটা দিন ট্র্যাফিক আইন মানত, দেশ বদলে যেত। এই প্রবল এনার্জি ক্রিকেটের পেছনে ব্যয় না করে নিজের কাজটা যদি সততার সঙ্গে একটা দিন সবাই মানে, সেটাই হয় দেশপ্রেম দেখানো।’ সক্রেটিসকে প্লেটো যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন, সর্বোচ্চ দেশপ্রেম কী, সক্রেটিস বলেছিলেন, সর্বোত্তমভাবে নিজের কাজটুকু করা।
এখন আমার কাজ তো লেখা। তাই আজকের দিনে লিখতে কলম না সরলেও লিখতে যে বসে গেলাম, তা মাশরাফির বইটা হাতে নিয়ে এই উক্তিটা খুঁজে পেয়েছি বলেই। আমার কাজ লেখা, আমি লিখে যাব।
আর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের একজন লেখকের একটা কর্তব্য রয়ে গেছে বলে আমি মনে করি। তা হলো—স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।
স্বপ্ন হলো একটা রেলগাড়ির ইঞ্জিনের মতো। বাংলাদেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নই। কাজেই আমরা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করছি না। জানি, তা অনেক সময় স্বপ্নভঙ্গের বেদনারও কারণ ঘটায়। ঘটালে ঘটাবে। ভালোবাসায় তো কষ্ট থাকবেই। জয় হোক বাংলাদেশের।

(লেখাটি প্রথম আলো থেকে নেওয়া )

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

 

উপরে