আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ২০:২৮

হবু ইঞ্জিনিয়ারেই সর্বনাশ ভারতের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
হবু ইঞ্জিনিয়ারেই সর্বনাশ ভারতের!

নিজেদের পাতা ফাঁদে উল্টো নিজেরাই আটকে যাওয়ার সর্বসাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে আছে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির সুপার টেন পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচের ভারত। নাগপুরে তারা স্পিনেই কাবু করতে চেয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। পেয়েছিল নিজেদের ভাবনার সঙ্গে দারুণ মানানসই উইকেটও। কিন্তু প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার চাতুরি তো কিউইরাও কম জানে না। কাজেই উইকেট বুঝে তারাও দলের পেস আক্রমণের প্রাণ ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদিকে বসিয়ে স্পিন সজ্জা বাড়িয়ে নামে। আর তাতেই বাজিমাত কেন উইলিয়ামসনের দলের। এমনই যে নিজেদের মাটিতে উল্টো নিজেরাই স্পিন বিষে নীল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।

মাত্র ১২৬ রানের পুঁজি নিয়েও জয়ের ফুল ফোটানো তিন কিউই স্পিনার মিলে তুলে নেন ৯ উইকেট। তবে এঁদের মধ্যে যিনি ভারতের সর্বনাশটা সবচেয়ে বেশি করেছেন, তিনি মিচেল স্যান্টনার। মাত্র ১১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা এ বাঁহাতি স্পিনারের অন্য এক পরিচয়ও কিন্তু আছে। তিনি যে একজন হবু ইঞ্জিনিয়ারও। পুরো ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বেরোতে তাঁর খুব বেশিদিন আর বাকিও নেই। পেশাদার এ ক্রিকেটার ওয়াইকাটো ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। তাঁর শহর হ্যামিল্টনের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া ওয়াইকাটো নদীর নামেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও স্যান্টনারের এমন সময়ে আবির্ভাব যখন একই নদীর তীরবর্তী শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রিকেটারটি মাত্রই অবসরে গিয়েছেন। কে তিনি? তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। ডেনিয়েল ভেট্টোরি ছাড়া আর কে!

তিনি যেতে না যেতেই স্যান্টনারের চলে আসাটাও তাৎপর্য্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে খুব। কারণ এই তরুণের মাঝেই যে অনেকে ‘পরবর্তী ভেট্টোরি’কে দেখতে শুরু করে দিয়েছেন। সেটি অবশ্যই তাঁরা একই শহরের বাসিন্দা বলে নয়। আবার স্যান্টনার তাঁর আদর্শ ভেট্টোরির মতো চশমা পড়েন বলেও নয়। স্পিন কার্যকারিতায় ভেট্টোরির ছায়া দেখা যাচ্ছে বলেই না তাঁর নামের সঙ্গে ‘আগামীর ভেট্টোরি’ বিশেষণটিও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য স্কুল জীবন থেকেই ভেট্টোরিকে দেখে বড় হওয়া স্যান্টনারের এ পর্যায়ে উঠে আসায়ও তো তাঁর গুরু কম বড় ভূমিকা রাখেননি।

ক্রিকেট জীবনের শুরুতে এ তরুণ স্পিনারই হতে চাননি, হতে চেয়েছিলেন ফাস্ট বোলার। সেই লক্ষ্যে ধুমসে খেলেও চলছিলেন হ্যামিল্টন বয়েজ হাই স্কুলের হয়ে। কিন্তু বাদ সাধেন ভেট্টোরিই। একদিন ডেকে স্যান্টনারকে বলে দেন যে স্পিনার হলেই ভালো করবেন তিনি! গুরুর কথা শুনে স্পিনে মনোনিবেশ না করলে হয়ত আজ এ পর্যায়ে আসাই হত না নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের হয়ে খেলা এ তরুণের। হয়ত ভারতের মাটিতে স্বাগতিকদের সর্বনাশও করে ছাড়া হত না হবু ইঞ্জিনিয়ারের!

উপরে