আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ১২:৫৩

ইডেনের ৭৮ রানের ইনিংস নিয়ে স্মৃতিকাতর আতহার

স্পোর্টস ডেস্ক
ইডেনের ৭৮ রানের ইনিংস নিয়ে স্মৃতিকাতর আতহার

ইডেনের সেই ইনিংসটির কথা মনে করিয়ে দিতে আতহার আলী খানের বিনয়, ‘৭৮ রানের ইনিংস আর এমন কি! দেশকে তো সেদিন এই ইনিংস দিয়ে জেতাতে পারিনি!’

আজ থেকে ২৫ বছর আগে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে প্রথমবারের পা রেখেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেদিন ৭১ রানে হেরে গেলেও ইডেনের সেই ম্যাচটি স্মরণীয় আতহার আলী খানের অনবদ্য ইনিংসের সৌজন্যে। দারুণ সব শটে ইডেন মাতিয়ে আতহার সেদিন অপরাজিত ছিলেন ৭৮ রানে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সেই ৭৮-ই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

ইডেন গার্ডেনে সেই শুরু, সে-ই শেষ বাংলাদেশের। ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দল একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট অংশ নিলেও কলকাতার ইডেনে সেবার খেলা হয়নি। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ভারতের মাটিতে কোনো দ্বিপাক্ষিত সিরিজ না হওয়ায় কলকাতাতেও আর কখনোই যাওয়া হয়নি বাংলাদেশ দলের।

খেলোয়াড়ী জীবন শেষে আতহার অনেক বছর ধরেই টেলিভিশন ধারাভাষ্যে ব্যস্ত। ভাষ্যকার হিসেবে কত দেশ ঘুরেছেন, কত মাঠ থেকেই না ইথারে ছড়িয়ে দিয়েছেন কণ্ঠ! কিন্তু ইডেনের কমেন্ট্রি বক্সে বসা হয়নি কখনোই। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাঁকে সেই সুযোগও এনে দিচ্ছে। আতহারের রোমাঞ্চটা তাই অনুমান করাই যায়। তিনি নিজেও বলছিলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এই ২৫ বছরে ইডেন গার্ডেন অনেক বদলে গেছে। ওখানে গিয়ে তো অবশ্যই দূর অতীতের কথা মনে পড়বে। একটু স্মৃতিকাতর তো হবই।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বপ্নযাত্রার একেবারে শুরুর সময়ে জাতীয় দলের সঙ্গি ছিলেন। ওই সময়ই নিজের ব্যাট থেকে আসা ঝলমলে সেই ইনিংস আতহারের স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল, ‘আমি ভাগ্যবান যে এমন একটা ইনিংস খেলতে পেরেছিলাম। সেই ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়াটা ছিল বিশেষ কিছু। মাঝে-মধ্যে মনে হয়, আরও একটু ইতিবাচক হলে হয়তো সেদিন দলকে জেতানোরও চেষ্টা করতে পারতাম।’

ইডেনের মাঠও মুগ্ধ করেছিল আতহারকে। এখনও মনে আছে, গ্যালারি ভর্তি দর্শক না থাকলেও প্রচুর দর্শক ছিল সেদিন। আর সেই দর্শকেরা গলা খুলেই সমর্থন জানাচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলকে, ‘আমার প্রতিটি শটে সেদিন উল্লাস করছিলেন দর্শকেরা। মনে হচ্ছিল, নিজের দেশের মাঠে খেলছি। মাঠটাও ছিল অসাধারণ। আউটফিল্ডে বল পড়েই ছুটে যাচ্ছিল বাউন্ডারির দিকে। খুব উপভোগ করেছিলাম ইনিংসটা।’


আতহারের কাছে সেই ইনিংসের একটি ভিডিও’ও ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সেটা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন, ‘এই ইনিংসটির একটি ডিভিডি আমার কাছে ছিল। প্রায়ই বের করে দেখতাম। কিন্তু বেশ কয়েক বছর হল সেটা হারিয়ে ফেলেছি। এমন একটা স্মৃতির স্মারক হারিয়ে ফেললাম! এই আফসোস বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।’


সেই ডিভিডিটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু সুখস্মৃতি কি এত সহজে হারায়! ইডেনের কমেন্ট্রি বক্সে বসে আজ শুধু বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটাই দেখবেন না আতহার, ফ্ল্যাশব্যাকে নিশ্চয়ই ভেসে উঠবে ২৫ বছর আগের অনেক টুকরো টুকরো ছবিও।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

উপরে