আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ১৮:১০

সাংবাদিকরা ইতিবাচক হোন, সৎ থাকুন: আফ্রিদি

স্পোর্টস ডেস্ক
সাংবাদিকরা ইতিবাচক হোন, সৎ থাকুন: আফ্রিদি

আজ বাদে কালই বাংলাদেশের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। কোথায় শহীদ আফ্রিদি মনযোগটা খেলায় দেবেন, এখন মাথা ঘামাতে হচ্ছে এক মন্তব্য নিয়ে। শেষ পর্যন্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করতে মুখ খুলতে হলো পাকিস্তান অধিনায়ককে। আফ্রিদির দাবি, মন্তব্যটা ইতিবাচকভাবেই করেছিলেন। আর সেটিতে রং চড়ানোর জন্য সাংবাদিকদের ধুয়ে দিয়েছেন।

‘পাকিস্তানের চেয়ে ভারতে বেশি ভালোবাসা পেয়েছেন’—শহীদ আফ্রিদির এই মন্তব্যের পর রীতিমতো ঝড়ই বয়ে গেছে পাকিস্তানে। জাভেদ মিয়াঁদাদ তো এই মন্তব্যের জন্য ‘লজ্জা হওয়া উচিত’, এমন কথাও বলেছেন। আফ্রিদি নিজের ফেসবুক পেজে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। জন লেননের বিখ্যাত সেই লাইন উদ্ধৃত করে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘আমরা যদি আরেকটা টেলিভিশন সেটের বদলে শান্তি নিয়েই মাথা ঘামাই, তাহলেই শান্তি পাব। দুঃখের বিষয় কিছু সাংবাদিকের জন্মই হয় একটা নির্দোষ কথা ইচ্ছা করে ভুল ব্যাখ্যা করার জন্য। ইতিবাচক হোন, সৎ থাকুন।’

পিসিবির দেওয়া এক অডিও বার্তায় পরে নিজের কথা আরও পরিষ্কার করেছেন আফ্রিদি। তাঁর দাবি, পাকিস্তানি ভক্তদের ছোট করার জন্য কিছু বলেননি। বরং বিশ্বমঞ্চে এসে সব ধরনের দর্শকদেরই একটা বার্তা দিতে চেয়েছেন, ‘আমি তো শুধু পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নই, বরং সব পাকিস্তানির প্রতিনিধিত্ব করছি। আর কেউ যদি আমার মন্তব্যটা ইতিবাচকভাবে দেখেন, তাহলে দেখবেন আমি পাকিস্তানি ভক্তদের নিয়ে কিছুই বলিনি। আমার পুরো অস্তিত্বই তো আসলে পাকিস্তান থেকে এসেছে।’

আফ্রিদি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতে তাঁর কথা শুধু পাকিস্তানিদের উদ্দেশে নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য, ‘আমাকে এক সাংবাদিক একটা প্রশ্ন করেছিল। আমি ইতিবাচকভাবেই উত্তরটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ আমি জানি, আমি যেটা বলব সেটা পুরো বিশ্ব শুনবে। আমরা যে ভারতে এসে খেলাটা উপভোগ করছি, সেটাই আমি বাকি সবাইকে বলতে চেয়েছি।’ পূর্বসূরিদের কথাও মনে করিয়ে দিলেন আফ্রিদি, ‘ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস বা ইনজামাম-উল-হককে জিজ্ঞেস করুন, ভারতে কতটা সম্মান পেয়েছেন সেটা তাঁরাই বলবেন। আর ভারতে তো ক্রিকেট-উপাসনাই করা হয়। আপনি ইমরান খানকে জিজ্ঞেস করুন, ক্রিকেট এখানে একটা ধর্ম।’

ভারত-পাকিস্তানের জমে থাকা বরফটা যে ক্রিকেটের মাধ্যমেই কমছে, সেটাও আফ্রিদি মনে করিয়ে দিতে ভুললেন না, ‘আমার কথাটা তো এক অর্থে কূটনৈতিক উত্তর ছিল।। কারণ ক্রিকেট সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসছে। পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কও ক্রিকেটের কারণেই একটু চাঙা হচ্ছে।’

আফ্রিদি আসল কথাই বলেননি। এই যুগে ঘৃণা ‘বিক্রি’ হয় সহজে, ভালোবাসা নয়!

 

বিডিটা্মস৩৭৬ডটকম/আইএম

উপরে