আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৫৭

২৫ বছর পর বাংলাদেশে খেলবে ইডেনে

স্পোর্টস ডেস্ক
২৫ বছর পর বাংলাদেশে খেলবে ইডেনে

২৫ বছর নেহাতই কম সময় নয়। সিকি-শতাব্দীই তো! এক শ বছরের চার ভাগের এক ভাগ। ক্রিকেটের নন্দন-কানন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ফিরছে এই সিকি শতাব্দী পর।

১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর এশিয়া কাপ ক্রিকেটে প্রথম ও এখনো পর্যন্ত শেষবারের মতো কলকাতার ইডেনে খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এরপর বঙ্গোপসাগরে গড়িয়েছে অনেক জল, হাঁটি হাঁটি পা পা অবস্থা থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট পৌঁছেছে আরেক ধা​পে। আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ থেকে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে টেস্ট খেলুড়ে দেশে, খেলা হয়ে গেছে পাঁচটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু ঘরের পাশের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ ইডেনে আর কখনোই ফেরা হয়নি বাংলাদেশের!

কত দেশ সফর হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার বড় বড় ভেন্যুতে খেলা হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত ভেন্যুগুলোর একটি ইডেন দূরের বিষয় হয়েই থেকেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য। এ জন্য অবশ্য প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকাই দায়ী। এটা কে ভেবেছিল, ২০০০ সালে অভিষেক টেস্টের প্রতিপক্ষ ছিল যে দেশ, তারা কখনোই আর আতিথ্য দেবে না বাংলাদেশকে!

২৫ বছর আগে বাংলাদেশের ইডেন-অভিজ্ঞতা কিন্তু একেবারেই মন্দ ছিল না। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি ৭১ রানে হেরে গেলেও সে দিনটি স্মরণীয় হয়ে আছে আতহার আলী খানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে। লঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে সেদিন দেশের হয়ে যেন একাই লড়েছিলেন আতহার। ৯৫ বলে ৭৮ রানের সেই ইনিংসটির জন্য সেদিন বিজিতের দলে থেকেও তাঁকে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি তুলে দিয়েছিলেন বিচারকেরা।
টসে জিতে সেদিন ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ৪৫ ওভারের ম্যাচে লঙ্কানদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৪৯। অরবিন্দ ডি সিলভা করেছিলেন ৮৯। রানাতুঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ৬৪।

ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের লড়াইটা অবশ্য খুব ভালো ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা দলের মেরুদণ্ড হয়ে ছিলেন আতহার। তাঁর ৭৮ রানের পাশাপাশি অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীনের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান। এই দুটি ইনিংস বাংলাদেশের সংগ্রহ নিয়ে দাঁড় করায় ৪৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭৮। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

২৫ বছর আগের ইডেন-অভিজ্ঞতা এখনো বেশ স্পষ্ট সাবেক অধিনায়ক ও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলামের, ‘আমরা খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম এমন ঐতিহাসিক মাঠে খেলতে পেরে। কলকাতায় হাজার হাজার বাঙালির সামনে খেলার মজাটাই অন্যরকম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে দর্শকেরা বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। ইডেনের মাঠে দাঁড়িয়ে দর্শকদের চিৎকারের আওয়াজটা এখনো কানে বাজে। বাঙালিদের ক্রিকেট দল হিসেবে আমাদের আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ।’

আগামী ১৬ মার্চ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঠিক একই অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে মাশরাফি-তামিম-সাকিবদের। আইপিএলের কল্যাণে মাশরাফি আর সাকিবের হয়তো ইডেনের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে।

কিন্তু দেশের জার্সি গায়ে ইডেনের মাঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার অভিজ্ঞতা এই প্রথম হবে তাদের। মাশরাফি-সাকিবদের সঙ্গে আতহারও ফিরবেন ইডেনে, ধারাভাষ্যকার হিসেবে। মাঠে দাঁড়িয়ে ২৫ বছর আগের স্মৃতি নিশ্চয়ই নস্টালজিক করে তুলবে তাঁকে!  (সূত্র-প্রথমআলো)

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

 

উপরে