আপডেট : ৮ মার্চ, ২০১৬ ১০:২৯

ধর্মশালার হিমেল হাওয়ায় শুরু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা

স্পোর্টস ডেস্ক
ধর্মশালার হিমেল হাওয়ায় শুরু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা
ধর্মশালার এই হোটেলেই থাকছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

ঢাকার প্রায় ৩৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই গরম থেকে সরাসরি ধর্মশালার চার-পাঁচ ডিগ্রি কনকনে ঠান্ডা। সঙ্গে হিমেল হাওয়া আর বৃষ্টি। আর অন্যদিকে দেশের মাটিতে ঢিলেঢালা পরিবেশ থেকে মাছি গলতে না-পারা নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। এটাই ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম দিন।

৬ মার্চ রোববার রাতে ভারতের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনাল গড়িয়েছিল মধ্যরাতের পরেও। কিন্তু ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সুযোগও পাননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সাতসকালে উঠেই তাদের ছুটতে হয়েছিল দিল্লির ফ্লাইট ধরতে।

দিল্লিতে যখন এসে তারা নামছেন, ততক্ষণে ধর্মশালার দৈনিক দুটো বিমানই উড়ে চলে গেছে। অন্য রাস্তা ছিল প্রায় ১০-১২ ঘন্টার লম্বা ও ক্লান্তিকর বাসজার্নি – কাজেই বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা হয়েছিল চার্টার্ড ফ্লাইটের। সেই বিশেষ বিমানে চেপেই বিকেল ৪:৩০টা নাগাদ তুমুল বৃষ্টির মধ্যে শৈলশহর ধরমশালার কাংড়া এয়ারপোর্টে এসে নামল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

নেমেই তারা যে পরিমাণ নিরাপত্তার জালে আটকা পড়লেন, তা বাধহয় মাশরাফি বিন মুর্তজারা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি। বিমানবন্দর থেকে আইসিসি-র বাস সটান তাদের নিয়ে গিয়ে ফেলল পাহাড়চূড়ায় প্যাভিলিয়ন হোটেলে। বিশাল লোহার দরজা দুম করে বন্ধ হয়ে গেল। ম্যাচের পুরো সপ্তাহ বহিরাগতদের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ। ঢাকায় বা কলকাতায় খেলা থাকলে টিম হোটেলের বাইরে সমর্থকদের ভিড় খুব পরিচিত দৃশ্য।

সাংবাদিকরা হোটেলের লবি বা রেস্তোরাঁতেও অনায়াসে যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু এখানে সে সবের বালাই নেই, বালির বাঙ্কারের পেছন থেকে অস্ত্রধারী রক্ষী বরং ইঙ্গিত করছেন, ভালয় ভালয় বিদায় হোন। মজার ব্যাপার হল, এই নজিরবিহীন নিরাপত্তার আয়োজনে বাংলাদেশ শুধুই উপলক্ষ মাত্র। হলফ করে বলা যায়, আগামী ১৯ই মার্চ ধরমশালাতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটা না-থাকলে নিরাপত্তার এই বাড়াবাড়ি কোনও মতেই হত না। বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাও বোধহয় অনেক ফুরফুরে মেজাজে থাকতে পারতেন।

কিন্তু যেহেতু ধর্মশালাতে ম্যাচ করার ব্যাপারে স্থানীয় সেনা পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে এবং স্বয়ং হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও তাতে প্রচ্ছন্ন সায় দিয়েছেন, তাই এখানে সেই ম্যাচ আদৌ করা যাবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। ধরমশালা যে কাংড়া জেলায় অবস্থিত, সেখানকার প্রায় প্রতিটি গ্রাম থেকেই বহু লোক ভারতীয় ফৌজে আছেন।

সম্প্রতি পাঠানকোটে বা কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঙ্গী হামলায় যে ভারতীয় সৈন্যরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদেরও অনেকে কাংড়া জেলার। যেহেতু ভারত মনে করে এই সব জঙ্গী হামলা পাকিস্তানের মদতেই হচ্ছে, তাই কাংড়ায় পাকিস্তান খেলতে এলে সেই সব শহীদ পরিবারের প্রতি চরম অপমান হবে, এই যুক্তি দিয়েই ধরমশালা থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন এই প্রাক্তন সেনানীরা।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধরমশালা স্টেডিয়ামের পিচ খুঁড়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে সঙ্গত কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও ধরমশালায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ফলে পুরো ধর্মশালা শহর কেন পুলিশে পুলিশে সয়লাপ, কেন মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে তল্লাসি তা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কারণ নেই। আর স্টেডিয়াম তল্লাটে তো শত শত পুলিশের দিনরাত পাহারা। তাদের নজর এড়িয়ে ভতরে একটা ছুঁচ গলারও উপায় নেই। ধরমশালায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে এই উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তারই প্রথম 'ক্যাজুয়ালটি' হল বাংলাদেশ।

কোথায় গ্রুপ এ-তে দারুণ ফেভারিট হিসেবে নেদারর‍্যান্ডস, আয়ার্ল্যান্ড আর ওমানকে হেলায় হারিয়ে তারা সুপার টেনে ওঠার জন্য নিশ্চিন্তে বসে থাকবে, তার জায়গায় হিমেল ঠান্ডা আর নিরাপত্তার শিরশিরানিতে বেশ জড়োসড়োভাবেই শুরু হল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।

উপরে