আপডেট : ৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০৯

পারলো না টাইগাররা! ভারতের ঘরে ষষ্ঠ শিরোপা

স্পোর্টস ডেস্ক
পারলো না টাইগাররা! ভারতের ঘরে ষষ্ঠ শিরোপা

ফাল্গুনের সন্ধ্যার অঝোর ধারার বৃষ্টি শঙ্কা জাগিয়েছিল- এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচ হবে তো? কিন্তু ম্যাচ শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের দুই ঘণ্টা পর সব শঙ্কা উড়িয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট লড়াই। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে দাঁড়ায় ১৫ ওভারে। আট উইকেটের বিশাল ব্যবধানের জয় তুলে নেয় ভারত। কোহলি ২৮ বল খেলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন এবং ধোনি করেন ৬ বলে ২০ রান।

টস ভাগ্য ছিলনা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফির। ঠান্ডা আবহাওয়া আর বৃষ্টির যে আদ্রতা রয়েছে মাঠে, আর তাই ভেবে ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি কন্ডিশনকে কাজে লাগানোর জন্য টস জিতে ফিল্ডিং নিতে একটুও ভুল করলেন না। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০  রান করেছে বাংলাদেশ।
ভারতের ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন আল আমিন হোসেন। ৫ রানে রোহিত শর্মাকে ফেরান তিনি। এরপর চলতে থাকে বেরাট কোহলি আর শিখর ধাওয়ানের ব্যাটিং তান্ডব। ৬ ওভারে ৫০ রানের কোটা পার করেন এই দুইজন। সাকিবের এক ওভারে তারা নেন ১৭ রান। রনির এক ওভারে নেন ১৩ রান। ৪৪ বলে ৬০ রান করে তাসকিনের শিকার হন ধাওয়ান। এরপর ধোনি এস পরপর কয়েকটি বাউন্ডারির মাধ্যমে খেলার সমাপ্তি টানেন। ১৪.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌছায় ভারত।

টস হেরে বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা ভালোয় করেন। ইনিংসের প্রথম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে প্রথম চারটি হাঁকান সৌম্য। শর্ট লেন্থের বলে কাভার দিয়ে বল পাঠান সীমানার বাইরে। এরপরেই ওভারে অশিষ নেহারার প্রথম বলে তামিম স্কোয়ার লেগ দিয়ে ফ্লিক করে চার আদায় করেন। তখন গ্যালারি জুড়ে টাইগার দর্শকদের শুরু বাঁধবাঙা উল্লাস।

কিন্তু তৃতীয় ওভারেই বোলিং পরিবর্তন আনেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। পেসার জাসপ্রিত সিং বুমরাকে বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব দেন। এই ওভার থেকে মাত্র দুই রান নেন তামিম-সৌম্য। তবে পরের ওভারে নেহেরার দ্বিতীয় বলে শর্ট লেন্থের বলে মিড অফ দিয়ে বলকে চারে পরিণত করেন। তবে চুপ করে বসে ছিলেন না অপর ওপেনার সৌম্য। নেহেরার ঐ ওভারের ৩য় ও ৪র্থ বলে দুটি চার হাঁকিয়ে পরের বলেই সৌম্য (১৪) মিড অফে হার্দিক পান্ডেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁ-হাতি। তখন দলীয় রান ৪ ওভারে ২৭।

সৌম্যের আউটের সঙ্গে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশ দলের। জাসপ্রিত বুমরার দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ফ্রন্ট ফুটে খেলতে যেয়ে তামিম অপরয়া ১৩ রানে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

এরপর ক্রিজে নামেন নতুন দুই ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান। শুরু থেকেই দুজনের ব্যাট কথা বলছিল বেশ। জাদেজার করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে পুর করে কাভার দিয়ে চার মারেন। ঐ ওভারের পঞ্চম বলে সাব্বিরও চার হাঁকান। জাদাজের বলে রিভার্স সুইপ করেন এই ডানহাতি। তখন বাংলাদেশের স্কোর কার্ডে ৮ ওভারে ২ উইকেটে ৫৮ রান।

টাইগারদের অস্টম ওভারে হার্দিক পান্ডের শর্ট ডেলিভারিতে ফ্রন্ট ফুট শটে ডিপ স্কোয়ার লেগ দিয়ে বলকে সীমানার বাইরে পাঠান সাকিব। একই ওভারের শেষ বলে আবারো স্কুপ শটে চার রান স্কোর বোর্ডে যোগ করেন এই বাঁ-হাতি।

তবে দশম ওভারে অশ্বিনের প্রথম বলে সাকিব (২১) সুইপ করতে গেলে টপ এজ হয়ে মিড অনে বুমরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।

সাকিবের পর মুশফিক (৪) ও মাশরাফি (০) দ্রতই ফিরে যান সাঝঘরে। জাদেজার বলে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দুই নিয়ে যেয়েই রান আউটের ফাঁদে পড়েন মুশি। এরপরের বলে মাশরাফি ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে চাইলে কোহলির হাতে ধরা পড়েন ম্যাশ। তবে একপ্রান্তে আগলে ছিলেন সাব্বির। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়ে যান এই ডানহাতি।

১৩তম ওভারে নেহেরার প্রথম বলে শর্ট ফাইন লেগ দিয়ে ফুলটস বলকে চারে পরিণত করেন সাব্বির। এরপর মাহমুদউল্লাহও ব্যাটে ঝড় তোলেন। নেহেরার ঐ ওভারে ৫ম বলে লং অফ এবং লং অনের মাঝামাঝি দিয়ে চার মারেন। তখন পুরো মাঠ যেন জন সুমদ্রে পরিণত হয়েছে। চারদিকে শুধু একই ধ্বনি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।

১৪তম ওভারে আরো মারমুখি হয়ে উঠেন মাহমুদউল্লাহ। এই ওভারের প্রথম বলে লেগ সাইড দিয়ে চার এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান রিয়াল।

১৪তম ওভারে আসে ২১রান। রিয়াদের ব্যাট থেকেই আসে ১৯। এ সময় দলীয় রান ৫ উইকেটে ১১৩ রান।

১৫তম ওভারে বুমরার প্রথম চার বল থেকে আসে পাঁচ রান। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ ১৩ বলে ৩৩ রান ও সাব্বিরের ২৮ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ভারতের হয়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অশিষ নেহেরা ও জাদেজা ও বুমরা নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

উপরে