আপডেট : ৪ মার্চ, ২০১৬ ১১:১৬

বাঘের ভয়! ফাইনালে বাংলাদেশকে চায়নি ভারত!

স্পোর্টস ডেস্ক
বাঘের ভয়! ফাইনালে বাংলাদেশকে চায়নি ভারত!

এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে আসলে কোন দলকে চেয়েছিল ভারত? বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান? উত্তরটি খুব সম্ভবত পাকিস্তানই। কিন্তু কেন? এর অনেক যৌক্তিক ব্যাখ্যাই তো দেওয়া সম্ভব। বহুজাতিক আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্য একটি কারণ তো অবশ্যই।

বিশেষ করে কোনো একটি আসরের সঙ্গে যদি কোনোমতে ‘বিশ্ব’ শব্দটি জুড়ে দেওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই! তখন পাকিস্তান আর পারে না বললেই চলে! তাই বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে পাকদের ব্যর্থতার ইতিহাসও সুদীর্ঘ হয়ে চলেছে। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো হওয়া টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের ফাইনালে ভারতের কাছে হারের দগদগে ক্ষতও তো কখনো শুকানোর নয়!

এবার এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির গ্রুপ ম্যাচেও পাকদের রীতিমতো এক তুড়িতে উড়িয়ে দেওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়েও নামা যেত, যদি ফাইনালে পাওয়া যেত শহীদ আফ্রিদিদের। কিন্তু তা না হয়ে ফাইনাল প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ হয়ে যাওয়াতে কিছুটা সমস্যা তাদের হয়েই গেল। কারণ ৬ মার্চের ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নামলে আক্ষরিক অর্থেই পুরোপুরি বিদেশ অভিজ্ঞতা হবে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের।

এমনিতে বিদেশে খেলতে গেলেও সচরাচর বাইরে খেলার অনুভূতিটাই হয় না তাদের। আর বহুদিন ধরে যেহেতু পাকিস্তানেও খেলতে যাওয়ার কোনো ব্যাপার নেই, পরের মাঠে গিয়েও একরকম ঘরের মাঠে খেলার অনুভবটাই পেয়ে থাকেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। এর কারণ প্রবাসী ভারতীয়রা। ক্রিকেট খেলুড়ে প্রায় সব দেশেই তারা সংখ্যায় এত যে গ্যালারিতে তাদের উপচে পড়া ভিড় অস্ট্রেলিয়ার মাঠকেও কখনো কখনো একখণ্ড ভারত বলে মনে করায়! অস্ট্রেলিয়া একটি উদাহরণ মাত্র।

এমনটি কোথায় হয় না? হোক সেটি দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কোনো মাঠ। ব্যতিক্রম বলতে কেবল বাংলাদেশই। আর বছরখানেক ধরে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলও দেশের মাটিতে কতটা অপ্রতিরোধ্য আর দুর্বার হয়ে উঠেছে, তার অন্যতম রাজসাক্ষী তো ধোনিরাও। মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং জাদুতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১-এ হেরে যাওয়ার পর তো বছরও পেরোয়নি এখনো।

এবার এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে সেই মুস্তাফিজকে সামলে জয় বের করে নেওয়া গেছে। কিন্তু সেই হারের পর টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল হিসেবে কিছুদিন আগেও স্বীকৃত না হওয়া বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল তো নিশ্চিত করেছে বটেই, সেই সঙ্গে ধরে ফেলেছে ছন্দটাও। ছন্দ পেয়ে যাওয়া দলটির পক্ষে আরেকটি সুবিধার দিক হলো নিজে দেশের সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থনও।

মাশরাফিদের হয়ে গলা ফাটাবে পুরো স্টেডিয়াম। সব সময় পৃথিবীর নানা প্রান্তে ভারতীয় সমর্থকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এখানে তারা একেবারেই সংখ্যালঘু। অথচ ফাইনালে পাকিস্তানকে পাওয়া গেলে দর্শক সমর্থনের একটি বড় অংশও হেলে থাকত ভারতের দিকেই। তাতে বিদেশে এসেও ঘরের মাঠে খেলার আনন্দ অনুভবও সঙ্গী হতো ধোনিদের। কিন্তু তা না হয়ে এবার সত্যি সত্যিই খেলতে হচ্ছে বিদেশের মাটিতে। তাই ফাইনালে বাংলাদেশকে কিছুতেই চাওয়ার কথা নয় ভারতের!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে