আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:৪৩

৫১ রানের জয় ছিনিয়ে নিলো টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক
৫১ রানের জয় ছিনিয়ে নিলো টাইগাররা

ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোর গড়তে পারেননি। সামনে হারের চোখরাঙ্গানিও দেখেছে টাইগাররা। কিন্তু বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৩৩ রানকেই অনেক বড় সংগ্রহ দেখালো! এবারের এশিয়া কাপে প্রথম জয় পেলো বাংলাদেশ। জয়টা ৫১ রানের। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৮ উইকেটে ১৩৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। এরপর মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদু্ল্লারা আমিরাতের ব্যাটসম্যানদের দুঃস্বপ্ন উপহার দিলেন। ধুঁকতে ধুঁকতে তারা ১৭.৪ ওভারে ৮২ রানে অল আউট। মাহমুদুল্লা অপরাজিত ৩৬ রানে দলের সংগ্রহে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। বল হাতেও ২টি উইকেট নিয়েছেন।

যে পুঁজি ছিল তাতে বাংলাদেশের বোলারদের কাছ থেকে আগুন ঝরা পারফরম্যান্সই দরকার হয়ে পড়েছিল। প্রথম ওভারে রোহান মুস্তাফাকে আউট করতে পারতো বাংলাদেশ। তাসকিনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ ফেলেছেন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় ওভারে আল আমিন হোসেনের বলে মিড অফে মাশরাফি বিন মুর্তজা নিয়েছেন মুহাম্মাদ কালিমের (০) উইকেট। চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান প্রায় আউট করে দিয়েছিলেন রোহানকে। ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের বলে চমৎকার ক্যাচ নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেলো শেষ পর্যায়ে বলটা মাটিতে লেগেছে। ভাগ্য মন্দ। ১০ রানে আবার বেঁচে গেলেন রোহান।

রোহান আর ৮ রান করেই বিদায় নিয়েছেন। আঘাতটা মাশরাফির। থার্ড ম্যানে ক্লিন ক্যাচ মুস্তাফিজের। ৩৩ রানের সময় তৃতীয় উইকেট হারায় আমিরাত। এবারো শিকারী মাশরাফি। শিকার শাইমান আনোয়ার (১)। পয়েন্টে দুর্দান্ত ক্যাচ মাহমুদুল্লার। মুস্তাফিজ যাদু চললো। অষ্টম ওভারে ফিরেই পরপর দুই বলে দুই ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকে সম্ভাবনা তৈরি করলেন মুস্তাফিজ। প্রথমে মোহাম্মদ শাহজাদের (১২) ফিরতি ক্যাচ নিলেন। এরপর মাশরাফি নিলেন স্বপ্নিল পাতিলের (০) সহজ ক্যাচ। ৩৪ রানে ৫ উইকেট নেই আমিরাতের। ১ রানে পড়েছে ৩ উইকেট। ৯ রানে ৪ উইকেট।

মাশরাফি ও মুস্তাফিজ ৮ বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে আমিরাতের মেরুদণ্ড ভেঙ্গেছিলেন। কফিনটা প্রস্তুত করেছিলেন। সেই কফিনে পেরেক ঠুকে মাহমুদুল্লা ও সাকিব আল হাসান আমিরাতের ফেরার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। ১১, ১২ ও ১৩ ওভারে তারা ৩ উইকেট নিয়েছেন। মাহমুদুল্লার শিকার ২ উইকেট। ৫৫ রানে ৮ উইকেট হারানো আমিরাতের জন্য হারটা হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার মাত্র। শেষ দুই উইকেট তাসকিনের। মাশরাফি ৩ ওভারে ১২ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেটে পেয়েছেন। ২ ওভারে ৫ রানে মাহমুদুল্লার শিকার ২ উইকেট। তাসকিন ৩.৪ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।  

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা নেহাত মন্দ ছিল না এদিন। মোহাম্মদ মিথুন ও সৌম্য সরকার ৪৬ রান এনে দিয়েছেন উদ্বোধনী জুটিতে। ১৪ বলে ২১ রান করে সৌম্য মোহাম্মদ শাহজাদের বলে মিড অফে সহজ ক্যাচই দিয়েছেন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৮। মন্দ না।

কিন্তু বাঁ হাতি স্পিনার আহমেদ রেজা ও অফ স্পিনার রোহান মুস্তাফা আটকে দিলেন ব্যাটসম্যানদের। রান আসছিল না। ৯ ওভারে ১ উইকেটে ৭০ রান ছিল বাংলাদেশের। ওখান থেকে ১৬০-১৭০ আশা করা যায়। কিন্তু এরপর ১১ রানে ৩ উইকেট হারালো টাইগাররা। পড়লো চাপে। ৫ ওভারে এলো মোটে ১৫ রান। সাব্বির রহমান (৬) প্রথম বড় শট খেলতেই ক্যাচ দিলেন। মিথুন বলটা স্টাম্পের কাছে রেখে বেরিয়ে পড়ে অযথা রান আউট হলেন। ৪১ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেছেন মিথুন। মেরেছেন ২টি ছক্কা ও ৪টি বাউন্ডারি। এর চার বল পরই মুশফিকুর রহিম (৪) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

৮৩ রানে ৪ উইকেট। চাপে টাইগাররা। সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাও সেই চাপ থেকে দলকে বের করতে পারলেন না। এরপর তো স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা নিজেদের বিপদ আরো বাড়ালেন। ১৭ ওভারে ৪ উইকেটে ১১১ রান। আঘাত আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদের। পরপর দুই বলে সাকিব (১৩) ও নুরুল হাসানকে (০) তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করলেন আমজাদ।
 
এরপর আর কি আশা করা যায়? বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ভালো দল না। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় তা প্রমাণ করে ছাড়লেন আমিরাতের বোলাররা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট। ৭ বলের মধ্যে ৩ রানে ৩ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। শেষ ওভারে ১৭ রান এলো। তা মাহমুদুল্লার কল্যাণে। এই ওভারে একটি ছক্কা ও চার মেরেছেন। তার অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংসটি ২৭ বলের। কিছুটা জাতের সংগ্রহ পেলো টাইগাররা। আগের ম্যাচে ১২৯ রান করেও বোলারদের কল্যাণে আমিরাতকে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। মাশরাফি-মুস্তাফিজরাও দারুণ বোলিংয়ে অল্প রানের পুঁজি নিয়ে দাপুটে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে।

উপরে