আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:০৪

মাশরাফির পর মুস্তাফিজের জোড়া আঘাত

স্পোর্টস ডেস্ক
মাশরাফির পর মুস্তাফিজের জোড়া আঘাত
অষ্টম ওভারে পরপর দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। আরব আমিরাতের বিপক্ষে অল্প রানের পুঁজি নিয়ে ফিল্ডিং করতে নেমে তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই আশা দেখছে গোটা দেশ।  দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে পরপর দুই অফ কাটারে মোহাম্মদ শাহজাদ ও স্বপ্নিল পাতিলকে বিদায় করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে শাহজাদকে ফেরান তিনি। মিডঅনে স্বপ্নিলের সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টানা দুই ওভারে আঘাত হানেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিপজ্জনক রোহান মুস্তফাকে আউট করা দেশসেরা এই পেসার বিদায় করেছেন শাইমান আনোয়ারকে (৪ বলে ১)। মাশরাফির বলে পয়েন্টে মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ এক ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন তিনি।

নিজের বলে মুস্তাফিজুর রহমান ঠিক মতো ফিরতি ক্যাচ ধরতে না পারায় বেঁচে গিয়েছিলেন রোহান মুস্তফা (১৭ বলে ১৮)। তবে বেশি দূর এগোতে পারেননি তিনি। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে সেই মুস্তাফিজকেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি।

দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হেনেছে বাংলাদেশ। আল আমিন হোসেনের বলে মিডঅনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন মোহাম্মদ কালিম (৫ বলে শূন্য)।

শুরুটা ভালো হলেও বাংলাদেশ পথ হারাল ইনিংসের মাঝে। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ এক রকম একাই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন লড়ার মত একটা স্কোর।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

আগের দিন দারুণ শুরু করা শ্রীলঙ্কাকে যেভাবে ইনিংসের পরের ধাপে বেঁধে ফেলেছিল আমিরাত, এদিন একই ভাবে তারা  আটকে রাখল বাংলাদেশকে। বৃহস্পতিবার ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১ উইকেটে ৭২, কিন্তু পরের ১০ ওভারে লঙ্কানরা করতে পেরেছিল আর মাত্র ৫৭। এবার ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৭৪, শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৫৯! সেটাও শেষ ওভারে ১৭ রানের সৌজন্যে।

প্রথম ম্যাচের মতো উইকেট এবার ঘাসে ভরা নয়। তবে যথারীতি আছে ঘাসের ছোঁয়া। টস জিতে তাই বোলিংয়ে আমিরাত। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে তিনি ব্যাটিংই বেছে নিতেন।

বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সতর্ক। প্রথম ৪ ওভারে ২২ রান তোলেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন। নিস্তরঙ্গ ম্যাচ প্রাণের ছোঁয়া পায় পঞ্চম ওভারে।

জীবন পান বাংলাদেশের দুই ওপেনারই। টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল আকাশে তুলেছিলেন মিঠুন। মিড অফ থেকে শাহজাদ পেছন দিকে ছুটে বল হাতে ছোঁয়ালেও মুঠোয় জমাতে পারেননি তালুতে। এক বল পর আকাশে বল তুলে বেঁচে যান সৌম্যও। থার্ডম্যানে ক্যাচ ছাড়েন সাকলাইন।

যেখানে দুটি উইকেট হারাতে পারত বাংলাদেশ, সেই ওভারেই বাড়ে রানের গতি। ফ্রি হিট লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন মিঠুন। পরের বলেই দারুণ টাইমিংয়ে চার।

পরের ওভারের প্রথম বলে শাহজাদের মিডিয়াম পেসকে মিড উইকেট গ্যালারিতে পাঠান সৌম্য। কিন্তু আরও একবার সম্ভাবনায় ইনিংসের অপমৃত্যু বাজে শটে, তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মিড অনে (১৩ বলে ২১)।

শাহজাদের পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা ও চারে রানের গতিটা ধরে রেখেছিলেন মিঠুন। কিন্তু আরেক প্রান্তে অফ স্পিনার রোহান মুস্তাফাকে প্রথম ওভারেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেট সীমানায় ধরা পড়েন সাব্বির (৪)।

মিঠুন এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রথমবার পঞ্চাশ ছোঁয়ার দিকে। পারলেন না নিজের হাস্যকর ভুলে। মুস্তাফার ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ডিফেন্স করেই কী মনে করে ছুট লাগালেন! বল ছিল পাশেই, আমিরাতের কিপার চকিতে বল তুলে ভেঙে দেন বেলস (৪১ বলে ৪৭)।

দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মোহাম্মদ নাভিদের বলে বাজে এক শটে বিদায় নেন মুশফিকুর রহিমও (৪)। ১ উইকেটে ৭২ থেকে বাংলাদেশ তখন আচমকাই ৪ উইকেটে ৮৩!

জাভেদের লেংথ বলে দারুণ এক পুল শটে ছক্কায় বৃত্ত ভাঙার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। জাভেদের ফুলটসে দৃষ্টিকটু ভাবে বোল্ড সাকিব আল হাসান (১৩)। পরের বলেই লং অনে উড়িয়ে আউট ইমরুল কায়েসের বদলে একাদশে আসা নুরুল হাসান।

রানের খাতা খুলতে পারেননি অধিনায়ক মাশরাফিও। দলের স্কোরকার্ড তখন বিবর্ণ। শেষ ওভারে মুস্তাফাকে এক ছ্ক্কা ও চারে ১৭ রান নেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি ২৭ রানে।

বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে তখন কিছুটা স্বস্তি। দায়িত্ব বাকিটুকু বোলারদের।

উপরে