আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২১:১৬

মান বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩৩

স্পোর্টস ডেস্ক
মান বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩৩

শিয়া কাপে জয়ের খোঁজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মধ্যপ্রাচ্যের দলটির বিপক্ষে লড়াইয়ে নামেন মাশরাফি-সাকিবরা।

তার আগে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। তাই প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করে স্বাগতিকরা জয়ের জন্য আমিরাতের সামনে ১৩৪ রানের টার্গেট ছুড়ে দিল বাংলাদেশ।

স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে নামেন মোহাম্মদ মিঠুন। বাংলাদেশের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৫ রান দলের স্কোরশিটে যোগ করেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন। এই জুটিতে আঘাত হানেন আমিরাত পেসার মোহাম্মদ শেহজাদ। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তিনি সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকারকে। ২১ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ২৪ রান করেন সৌম্য।

একেই বলে ক্রিকেট! ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল সাব্বির রহমান রুম্মানের। ৩২ বলে করেছিলেন ৪৪ রান। আমিরাতের বিপক্ষে নিজেকে উপস্থাপন করলেন অন্যভাবে, অর্থাৎ টি-২০ নয়, টেস্ট মেজাজে! এই ম্যাচে ১২ বলে করেছেন ৬ রান। বাংলাদেশের টি-২০ স্পেশালিস্ট ক্রিকেটারের স্ট্রাইক রেট মাত্র ৫০! তার নামের পাশে এই পরিসংখ্যান সত্যিই বেমামান। রোহান মোস্তফার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সাব্বির ধরা পড়লেন ফরহাদ তারিকের হাতে।

আগের ম্যাচের মিঠুন, আর আমিরাতের বিপক্ষে খেলতে নামা মিঠুনের মিল পাওয়া গেল না। যেন সাব্বিরের বিপরীত মেরুতে তার অবস্থান। ভারতের বিপক্ষে ১৪ বলে ৭৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১১ রান। আর আমিরাতের বিপক্ষে ৪১ বলে ১১৪.৬৩ স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৭ রান। আমিরাতের বিপক্ষে ৩ রানের আক্ষেপ নিয়েই সাজঘরে ফিরতে হলো তাকে। রোহান মোস্তফার বলে স্টাম্পিং না হলে পেয়ে যেতেন টি-২০তে প্রথম ফিফটি।

বলতে বলতে মুশফিকুর রহিমও সাজঘরে ফিরলেন। মিঠুনের বিদায়ের সঙ্গে মুশফিকের বিদায়টা হয় ২ রানের ব্যবধানে। মোহাম্মদ শেহজাদের বাউন্সার থেকে পাওয়া বলটি লাফিয়ে মোকাবিলার অযথা চেষ্টা করেন মুশফিক। বিপদে পড়েন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ৮ বলে বাউন্ডারিহীন ৪ রানের ইনিংস খেলাই যথেষ্ট মনে করলেন তিনি!   

কিছুটা ফর্মহীনতা ভুগতে থাকা সাকিব আল হাসান ফর্মে ফিরতে পারতেন আমিরাতের বিপক্ষে। কিন্তু ১৩ বলে একটি চারে ১৩ রান করেই ধরাশায়ী হলে জাভেদের কাছে। ইমরুল কায়েসের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া নুরুল হাসান সোহানও পারলেন নিজেকে মেলে ধরতে। সাজঘরে ফিরলেন রানের খাতা না খুলেই। জাভেদের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফরহাদ তারিকের তালবন্দী হন সোহান। ‘গোল্লা’ নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফিকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখালেন ওই জাভেদ। আমিরাত অধিনায়ক একাই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপকে ধুমড়েমুচড়ে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হলেন।

আমিরাতের পক্ষে সেরা বোলার মোহাম্মদ নাভিদ। ১২ রানে দুই উইকেট নেন তিন। অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ পকেটে জমা করেছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন রোহান মোস্তফা ও মোহাম্মদ শেহজাদ। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে