আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১০:২২

বিদায়ী টেস্টে ইতিহাস গড়লেন ম্যাককালাম

স্পোর্টস ডেস্ক
বিদায়ী টেস্টে ইতিহাস গড়লেন ম্যাককালাম

তার ব্যাট যেন হয়ে গেলো তরবারী। এক প্রকার কাটাকুটি খেললেন অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের নিয়ে। বিদায়ী টেস্টে ব্যাট হাতে খুঁজে পাওয়া গেলো চিরচেনা ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। তবে ১০১তম টেস্ট খেলতে নামা এই ম্যাককালাম আরো আগ্রাসী।

ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে টেস্টের ইতিহাস নতুন করে লিখলেন ম্যাককালাম। ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে গড়েছেন টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড। ৫৬ বলে দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডটা এতদিন যুগ্মভাবে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস ও পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হকের।

হেগলি ওভালে ম্যাককালাম যখন ব্যাট করতে যান তখন একবার সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালো তাকে। এরপর প্রতি শটে দর্শকদের প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর রেখেছেন। উত্তেজনায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন অনেকবার। আর দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে আরেকবার পেলেন দাঁড়ানো অভিবাদন। মাত্র ৭৮ মিনিটে সেঞ্চুরি করেছেন। তার চেয়ে কম সময়ে টেস্ট সেঞ্চুরি করার রেকর্ড আছে আর দুটি। তবে বলের হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা এখন কেবলই ম্যাককালামের। ১৯৮৫-৮৬ তে অ্যান্টিগায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ভিভ রিচার্ডস। ২০১৪-১৫ তে আবু ধাবিতে সমান বলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে তার রেকর্ড ভাগ বসিয়েছিলেন মিসবাহ। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে তাদের ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় উঠে গেলেন ম্যাককালাম।

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কের ইনিংসটি ১৪৫ রানের। খেলেছেন ৭৯ বল। ২১টি চার এই বুনো ইনিংসে। ছক্কার মার ৬টি। এটি তার ১২তম সেঞ্চুরি। ম্যাককালাম খেলতে নেমেছিলেন ঘরের মাঠেই। তারপর মনে করিয়ে দিয়েছেন ২০১৪ এর বক্সিং ডের কথা। সেদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৪ বলে ১৯৫ রান করেছিলেন। ছক্কা মেরেছিলেন ১১টি। এদিন অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ছয়বার সীমানার ওপারে আছড়ে ফেলেছেন। প্রথমটি মেরেছেন জশ হ্যাজলউডকে। সেই সাথে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে টেস্টে ছক্কার বিশ্ব রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছেন ম্যাককালাম। তখন তার ছক্কা ১০১টি। ইনিংস শেষে ১০৬টি।
 
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন ম্যাককালাম। এরপর ঝড় তুলতে শুরু করেন। চতুর্থ উইকেট পড়ে ৭৪ রানের সময়। কোরি অ্যান্ডারসনের সাথে পঞ্চম উইকেটে মাত্র ১৮.২ ওভারে ১৭৯ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। লাঞ্চের আগে ১০ ওভারে ১১ রান দিয়েছিলেন হ্যাজলউড। পরের চার ওভারে তাকে দিতে হয় ৫৭ রান! ৬৬ বলে ৭২ রান করে আউট হন অ্যান্ডারসন। চা বিরতির সময় ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৩ রান ছিল নিউজিল্যান্ডের! ওয়ানডের হিসেবে খারাপ সংগ্রহ না!

এই বিস্ফোরক ইনিংসে দুইবার বেঁচে গেছেন ম্যাককালাম। ৩২ রানের সময় কঠিন ফিরতি ক্যাচটা নিতে পারেননি জেমস প্যাটিনসন। আর ৩৯ রানের সময় তার ক্যাচ নিয়েছিলেন মিচেল মার্শ। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেল প্যাটিনসন 'নো' বল করেছেন! আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি ম্যাককালামকে। ৩৪ বলে ফিফটি করেছেন। পরের ৫০ এসেছে মাত্র ২০ বলে। শেষ পর্যন্ত ম্যাককালামের তাণ্ডব থামাতে পেরেছেন প্যাটিনসনই। ন্যাথান লিওন ক্যাচ নিয়েছেন। একটু হলেও স্বস্তি পায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৩৭০ রানে অল আউট হয় কিউইরা।

উপরে