আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২১:৫৭

যে কারণে ক্রিকেটারদের অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি

বিডিটাইমস ডেস্ক
যে কারণে ক্রিকেটারদের অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি

‘ক্রিকেট, একজন ক্রিকেটারের জীবনকে গ্রাস করে ফেলে। আপনার প্রতিপক্ষ আপনার জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’ লিখেছেন মার্ক ট্রেসকোথিক। তিনি আরও বলেন- ‘সফরে গিয়ে চাকচিক্যপূর্ণ হোটেলের কামরাকেও মনে হতে পারে চার-তারা জেলখানা।’

১৯৯১ সালে বিখ্যাত এক ক্রিকেট লেখক ডেভিড ফার্থ তার এক বইয়ে লিখেছিলেন সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশ উদ্বেগজনক!

পরে তিনি এ নিয়ে আরও অনুসন্ধান চালান এবং ক্রিকেটারদের আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ পান। পঁচিশ বছর পরও এই বই-এর বিষয় ও তথ্য বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে।

কিন্তু যেটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই সেটা হল ক্রিকেট মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে ধরনের প্রভাব ফেলে তেমন আর কোনো স্পোটর্স ফেলে না।

কিন্তু কী আছে ক্রিকেট খেলায় যা ক্রিকেটারদের মনের ওপর এতটা চাপ তৈরি করে- নাকী ক্রিকেট খেলায় যারা আসেন এটা তাদেরই কোনো সমস্যা?

কেন ক্রিকেটাররা মানসিক চাপের শিকার?

২০১২-র এক জরিপের পরিসংখ্যান বলছে ইংল্যান্ডের সাবেক পেশাদার ক্রিকেটারদের প্রতি পাঁচজনে একজন তাদের খেলোয়াড় জীবনে মানসিক চাপ ও অবসাদে ভুগেছেন।

প্রতি বিশজনের একজনকে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হয়েছে।

ক্রিকেট থেকে অবসর নেবার পর দৈনন্দিন জীবনে খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েন অনেক ক্রিকেটার।

প্রতি তিনজনে একজন ক্রিকেট থেকে অবসর নেবার পর দৈনন্দিন জীবনে খাপ খাওয়াতে সমস্যায় পড়েছেন।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানসিক সমস্যার রেকর্ড একরকম নয়।

কিন্তু তারকা শ্রেণীর ক্রিকেটাদের অনেকেই যেভাবে তাদের মানসিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, তেমনটা অন্য খেলাধূলার ক্ষেত্রে শোনা যায় নি।

ইংল্যান্ডের তারকা খেলোয়াড় অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ বলেছেন তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে সবসময় দেখা হয়েছে তার সাফল্য আর ব্যর্থতার নিরীখে।

‘যখন সবকিছুতে সাফল্য – তখন আমি ভাল। কিন্তু ব্যর্থতা আসলেই সেটা ব্যক্তি হিসাবে আমার ওপর কলঙ্কের ছায়া ফেলে,’ ২০০৬-৭ অ্যাশেজ ট্যুরে ইংল্যান্ডের বিপর্যয়কারী পারফরমেন্সের পর অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ বলেন বিবিসিকে।

ক্রিকেটাররা তাদের সাফল্যের থেকে সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে বেশি উদ্বেগে ভোগেন। ইয়েন ও ব্রায়ান ও এড কোওয়ান

ইংল্যান্ড খেলোয়াড় কলিন মিলবার্ন ক্রিকেট থেকে অবসর নেবার পর ‘অতিরিক্ত মদ্যপান’ করে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন ও নিজের মৃত্যু ডেকে আনেন- লিখেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও লেখক জেমস গ্রেয়াম ব্রাউন।

‘ক্রিকেট একটা আজব খেলা। আপনি খেলছেন দলে। কিন্তু আসলে আপনি একা। আপনি যখন ব্যাট করছেন আপনার পারফর্মেন্স আপনার হাতে- বল করছেন যখন দায়িত্ব আপনার একার ।’

একজন ভাল ব্যাটসম্যানও চাপে থাকেন – উদ্বেগে ভোগেন- পরের বলটা কী আমার ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেবে- আমি কী সফল হব- নাকি আউট হয়ে যাব।

নিউজিল্যান্ডের ইয়েন ও-ব্রায়ান এবং এড কোওয়ানও এ ব্যাপারে লিখেছেন, ‘ক্রিকেটাররা তাদের সাফল্যের থেকে সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে বেশি উদ্বেগে ভোগেন।’

মার্কাস ট্রেসকথিকের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন ‘ক্রিকেট একজন ক্রিকেটারের জীবনকে গ্রাস করে ফেলে। আপনার প্রতিপক্ষ আপনার জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’

‘বিশ্বের দারুণ কোনো দেশে একটা সফরে গিয়ে চাকচিক্যপূর্ণ হোটেলের কামরাকেও মনে হতে পারে চার-তারা জেলখানা।’ লিখেছেন ট্রেসকথিক।

ডেভিড ফার্থের বইয়ের তথ্যগুলো কিছুটা ভয়াবহ এবং এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকলেও ক্রিকেটাররা যে তাদের খেলেয়াড় জীবনে প্রচন্ড চাপের মধ্যে কাটান এবং অনেকে এই চাপ নিতে হিমশিম খান সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

পেশাদার ক্রিকেটারদের সমিতি পিসিএ ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে বেশ কয়েক বছর।

ক্রিকেটাররা তাদের কোচের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে ভয় পান- পাছে খেলা থেকে তারা বাদ পড়ে যান- যেটা একটা বড় সমস্যা বলে মনে করে এই সমিতি। সহকর্মীদের সঙ্গেও মন খুলে সমস্যা নিয়ে কথা বলতে ভয় পান তারা- কারণ মাঠে সবাই সবার প্রতিদ্বন্দ্বী। এ কারণে পিসিএ একটি ‘হেল্প লাইন’ও চালু করেছে।

ক্রিকেটারদের পরামর্শ ও সাহায্য দেবার জন্য তারা ছয়জন পেশাদার পরামর্শকও নিয়োগ করেছে প্রয়োজনে ক্রিকেটাররা যাদের সাহায্য চাইতে পারেন- যারা খেলার মাঠের ‘চোখ ও কান’ হিসাবে কাজ করেন এবং ক্রিকেটাররা তাদের ওপর আস্থা রেখে গোপনে তাদের পরামর্শ নিতে পারেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে