আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:০৭

বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই যুব বিশ্বকাপ শুরুর আগে হেসে-খেলে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল মেহেদী হাসান মিরাজরা। বাংলাদেশের যুবাদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছিল অনেক বড় ব্যবধান হাতে রেখে। কিন্তু সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজই যুব বিশ্বকাপে এসে আমূল বদলে গেলো।  যদিও কাগজে-কলমের পরিসংখ্যানে আর নিজেদের পারফর্মে ক্যারিবীয়দের থেকে এগিয়ে সেমিফাইনালের ম্যাচে নেমেও ৩ উইকেটের হার বরণ করতে হলো স্বাগতিকদের। সঙ্গে স্বপ্ন পূরণ করতে পারলো না মেহেদি হাসান মিরাজের দল।

আইসিসি অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টাইগারদের ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবারা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ১৪ তারিখের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে উইন্ডিজ।

১১ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ম্যাচটি শুরু হয়। ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার পিনাক ঘোষ (০) এবং সাইফ হাসান (১০) সাজঘরে ফিরলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা। তবে সেই ধাক্কাটা সামলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন জয়রাজ শেখ।

এমন অবস্থায় দলকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যান জয়রাজ শেখ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে দুজনে মিলে গড়েন ৩১ রানের জুটি। তবে ১৩তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৫৮ রানে হেটমায়েরের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শান্ত। পরে জাকির হাসানকে সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ২২তম ওভারে এসে বোল্ড আউটের শিকার হন জয়রাজ (৩৫)। এরপর জাকির হাসান (২৪) বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরলে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগার যুবারা।

ষষ্ঠ উইকেটে জুটি গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। দুর্দান্ত অর্ধশতক করে দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দারুণ সংগ্রহ এনে দেন তিনি। ৬০ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়ে মাঝ নদীতে ফুটো নৌকায় বসে থাকা দলকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। তার সঙ্গে সাইফুদ্দিন ৩৬ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলে পরপর ২ বলে আউট হয়ে ফেরেন। ২ জনকেই ফেরান পল।

এরপর একের পর এক উইকেট পরে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে টাইগার যুবারা সব উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান সংগ্রহ করে। জয়ের জন্য উইন্ডিজদের প্রয়োজন হয় ২২৭ রান।

২২৭ রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়ন্ত সূচনাই এনে দিয়েছিলেন গিডরন পোপ ও টেভিন ইমলাখ। দুজন মিলে ৩ ওভারেই তোলেন ৩১ রান। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ইমলাখকে (১৪) এলবিডব্লিউ করে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো মিরাজ। নিজের পরের ওভারে এসে বিধ্বংসী হয়ে ওঠা পোপকেও (৩৮) সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দ্রুত ২ উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেটে কাচি কার্টিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার। দুজন মিলে দলকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যান। অবশেষে কার্টিককে (২২) ফিরিয়ে ৬২ রানের জুটি ভাঙেন শাওন।

এরপর ক্যারিবীয় অধিনায়ক হেটমায়ার শামার স্প্রিঙ্গারের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে অনেকটা এগিয়ে নেন। হেটমায়ার ফিফটিও তুলে নেন। তবে দলীয় ১৪৭ রানে হেটমায়ারকে (৬০) ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে আশা জাগান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দলীয় ১৭৭ রানে গুলিকে (৯) এলবিডব্লিউ করে ফেরান শাওন। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে পলকে (৪) ফিরিয়ে উইন্ডিজদের শিবিরে আবারও আঘাত হানেন শাওন। এর ফলে দলীয় ১৮১ রানের মাথায় ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয় উইন্ডিজদের।

ষষ্ঠ উইকেটে স্প্রিনজারের সাথে জুটি গড়ে বসেন ফ্রিউ। দলীয় প্রয়োজনের সময় স্প্রিনজার ব্যক্তিগত অর্ধশত করে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। ফ্রিউকে (১২) সাইফুদ্দিন কট বিহাইন্ড করে ফেরালেও তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৪৮.৪ ওভারে উইন্ডিজরা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে