আপডেট : ২১ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:০৩

পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচ হেরে টাইগারদের সিরিজ শঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক
পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচ হেরে  টাইগারদের সিরিজ শঙ্কা

বলা যায়, এটি বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচই ছিলো। যেখানে নবীনদের পরখ করতে অভিজ্ঞদের স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছিলো। এই প্রথম দলের বাইরে ছিলেন তামিম, মুশফিকদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। পাশাপাশি আল-আমিন, মুস্তাফিজ, শোভাগতকেও বিশ্রাম দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের ফল কতোটা ইতিবাচক হয়েছে ম্যাচে শেষে তা স্পষ্ট।

চার ম্যাচ টি-২০ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৮৮ রানের টার্গেটে নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। যেখানে এই ম্যাচটি জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যেতো সেখানে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩১ রানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছেড়েছে সাকিব-মাশরাফিরা। তবে সিরিজে এখনও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বুধবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৮৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেন ইমরুল কায়েস। এর পর সৌম্য ও সাব্বির মিলে ৬৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো।

২৫ রান করা সৌম্য ক্রেমারের শিকার হলেও ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে ৫০ রান করে আউট হন সাব্বির। এসময় অভিষিক্ত মোসাদ্দেককে নিয়ে জুটি গড়তে গিয়ে সাকিব ১০ বলে ৩ রান করে আউট হন। মোসাদ্দেক করেন ১০ বলে ১৫।

দলীয় ১০৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর একমাত্র অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে অবস্থান নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। উজ্জীবিত জিম্বাবুয়ে তাকেও দাঁড়াতে দেয়নি বেশিক্ষণ। ৪ বলে ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন রিয়াদ।

সপ্তম উইকেটে ৩১ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন অভিষিক্ত মুক্তার আলী ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। মুক্তার ১৫ বলে ১৯ ও নুরুল ১৭ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ক্রেমার সর্বোচ্চ ৩টি, সিকান্দার রাজা ২টি ও চিসোরো ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন মাসাকাডজা ও ভ্যুসি সিবান্দা। ব্যক্তিগত ২০ রানে মোহাম্মদ শহীদের শিকার হন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাডজা। এর পর সাকিবের শিকার হন ৪৪ রান করা সিবান্দা।

তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মুতুম্বামি ২০ রান করে সাজঘরে ফিরলেও উইলিয়ামসের ৩২ ও ওয়ালারের ৪৯ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আবু হায়দার রনি ২টি ও মোহাম্মদ শহীদ ১টি উইকেট দখল করেন।

উল্লেখ্য, দলে বড় পরিবর্তন নিয়ে ৩য় ম্যাচে মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ। তামিমের জায়গার ইমরুল কায়েসকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া দলে ছিলেন পেসার মোহাম্মদ শহীদ। পাশাপাশি মোসাদ্দেক হোসাইন, মোক্তার আলী ও আবু হায়দার রনির এ ম্যাচে অভিষেক হয়েছে। বাদ পড়েছেন আল-আমিন, মুস্তাফিজুর রহমান, শোভাগত হোম, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

এদিকে ৪ ম্যাচ টি-২০ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে হারলেও এখনো ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ম্যাচে জয় পেলেই সিরিজ নিশ্চিত হতো হাথুরুসিংহের শিষ্যদের। কিন্তু তা হয়নি। অপরদিকে সিরিজ রক্ষায় মরিয়া জিম্বাবুয়ে ৩য় ম্যাচে বাংলাদেশকে জয় বঞ্চিত করে সিরিজে সমতা আনার স্বপ্ন দেখছে। জিম্বাবুয়ে যেমন শেষ টি-২০ জিতে সিরিজ ড্র করতে চাইবে, বাংলাদেশও চাইবে শেষ ম্যাচের জয়ে সিরিজ ঘরে তুলতে। 

উপরে