আপডেট : ১৬ জুন, ২০১৯ ১৭:৫২

বিদ্যালয়েে দেহব্যবসা চালাচ্ছেন দপ্তরি-নৈশপ্রহরী, শুনে অজ্ঞান প্রধান শিক্ষক!

অনলাইন ডেস্ক
বিদ্যালয়েে দেহব্যবসা চালাচ্ছেন দপ্তরি-নৈশপ্রহরী, শুনে অজ্ঞান প্রধান শিক্ষক!
নড়াইল সদর উপজেলার নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের রাতেরবেলা বিদ্যালয়ে এনে এলাকার লোকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা চালান নৈশপ্রহরী লতিফ সিকদার। লতিফ একেক দিন একেকজন নারী নিয়ে আসেন আর প্রভাবশালীরা এসে তাকে টাকা দিয়ে যায়। এখানে যারা আসে তারা প্রভাবশালী বলে ভয়ে কিছু বলতে পারেনি এলাকাবাসী। বুধবার রাতে এলাকাবাসী হাতেনাতে এই অপকর্ম ধরে ফেলে বিদ্যালয়ের গেট আটকে দেয়। পরে প্রভাবশালী কিছু লোকের উপস্থিতিতে ছাড়া পান নৈশপ্রহরী লতিফ।

এ ঘটনার পরদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঈদের ছুটিতে ১৩ জুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে অভিযুক্ত দপ্তরিকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ওই নৈশপ্রহরীসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। বিক্ষোভ মিছিলের পর বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে এলাকাবাসীর নানা প্রশ্নে উচ্চ রক্তচাপে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ।

প্রতিবেশী বিপ্লব মোল্যা বলেন, বিদ্যালয় হলো মানুষ গড়ার স্থান। এখানে এ ধরনের অপকর্ম দিনের পর দিন চললেও ম্যানেজিং কমিটি কিংবা প্রধান শিক্ষক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।

নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে আসি। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদার, মফিজুর রহমান সিকদার, সুলতান আহমেদ ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। নৈশপ্রহরী লতিফ তাদের কাছে ছিলেন। আমি ওই সময়ই তাকে পুলিশে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে না পেরে সভাপতির জিম্মায় দিয়ে চলে আসি। শনিবার বিদ্যালয় খুললে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু শনিবার বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। ওই সময় এলাকার কিছু লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার কারণে উচ্চ রক্তচাপে অচেতন হয়ে পড়ি। পরে অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী লতিফ সিকদার নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, ওই দিন আমি বিদ্যালয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা আমি জানি না।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানা পুলিশের এসআই রজত বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি-নৈশপ্রহরীর অপকর্মের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম  

উপরে