আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪৪

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা

অবশেষে সিলেটের বিশ্বনাথে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে টাঙ্গাইল থেকে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে ধর্ষণের পর পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুন হওয়া ওই কিশোরী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার নগরভাত আউটপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে রুমি আক্তার (১৫)। সে স্থানীয় মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

ওই ছাত্রীকে টাঙ্গাইল কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে শফিক মিয়া নামে এক যুবক। এ ঘটনায় পুলিশ মোবাইলের সূত্র ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্ষকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো- ধর্ষক বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহর ছেলে শফিক মিয়া (৩২), তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হেপী (২৩) তার দুই ভাবি দিপা বেগম (৩২) ও লাভলী বেগম (২৫)।

শফিক মিয়াকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরস্থ নাসির গ্লাস ফেক্টরি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পর বুধবার বিকালে থানা কম্পাউন্ডে প্রেস ব্রিফিং করেছে পুলিশ। এ সময় থানার ওসি শামছুদ্দোহা পিপিএম বলেন, ঘাতক শফিক মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জপুরস্থ নাসির গ্লাস ফেক্টরিতে চাকরি করত। একসময় তার শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়লে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। একই ওয়ার্ডে অসুস্থ রুমি আক্তারকে নিয়েও ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। এতে স্কুলছাত্রী রুমির সঙ্গে পরিচয় হয় ঘাতক শফিক মিয়ার।

গত ৯ সেপ্টম্বর রুমি আক্তারকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথের রামচন্দ্রপুর নিজ গ্রামে নিয়ে যায় শফিক। সেখানে ধর্ষণের পর একটি খালের পানিতে চুবিয়ে খুন করে তার লাশ পার্শ্ববর্তী পাঠাকইন গ্রামের তবারক আলীর বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। এরপরই টাঙ্গাইলে পালিয়ে যায় শফিক মিয়া।

পরে লাশটি অজ্ঞাত কিশোরী হিসেবে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে শফিকের স্ত্রী অতিআগ্রহ হয়ে আসামিদের ধরতে বারবার পুলিশকে ফোন দেয়। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে প্রথমে তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হেপীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই বেরিয়ে আসে শফিকের নাম।

ঘটনার প্রায় আট দিন পর ওই লাশের পরিচয় এবং ঘাতকদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর কিশোরী রুমিকে হত্যার দৃশ্য দেখে পুলিশকে না জানানোয় শফিকের দুই ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়। ঘাতক শফিক মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীকে ধর্ষণের পর একাই হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

এদিকে হত্যার শিকার রুমির বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর তার বোন অসুস্থ হলে ওই হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন তিনি। সেখান থেকে তার বোনকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তার পরিবারের পক্ষ থেকে এর বিচার দাবি করেছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে