আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৮ ১৭:৪৫

লালবাবু’র দাপটে অতিষ্ঠ সিরাজগঞ্জ আ.লীগের নেতাকর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক
লালবাবু’র দাপটে অতিষ্ঠ সিরাজগঞ্জ আ.লীগের নেতাকর্মীরা

লাল গাড়ি, লাল জামা-জুতা, মেহেদী রাঙ্গা লাল চুল, হাতে স্বর্ণের বালা, গলায় ভারি চেইন পরিহিত সিরাজগঞ্জ যুবলীগের দাপুটে নেতা তিনি। বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত এ নেতাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডাকেন ‘লাল বাবু’। এ লাল বাবু হলেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক, হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক, আনসারী ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক রেজভী। গত ৪-৫ বছরে রাজনীতিতে তার বিস্ময়কর উত্থান। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্নার আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে তিনি অল্প সময়েই সিরাজগঞ্জের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

২০০৯ সালে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জান্নাত আরা হেনরীর পরাজয়ের পর এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাঠ গোছাতে শুরু করে হাবিবে মিল্লাত মুন্না। এ সময়ে কৌশলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেন জামায়াত পরিবারের সন্তান রেজভী। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে হাবিবে মিল্লাত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সিরাজগঞ্জে রেজভীর দাপট বেড়ে যায়। সংসদ সদস্যকে অন্ধকারে রেখে তার নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন রেজভী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরের মাসেই ১৭ ফেব্রুয়ারি সড়ক ভবনে অস্ত্র প্রদর্শন করে কাজ বাগিয়ে নিতে চেষ্টা করেন রেজভী। এ সময়ে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিরাজগঞ্জে হাবিবে মিল্লাতের নাম ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য করে রেজভী কোটিপতি বনে গেছে। যে কোন কাজের ভাগবন্টনের ক্ষেত্রে এমপির ভাগের কাজ কাকে দেওয়া হবে এ সিদ্ধান্ত রেজভীই দেন। সহযোগী সংগঠনের কাকে কোন পদে প্রার্থী করা হবে এই ক্ষেত্রেও রেজভীর কথাই এমপির কথা। অতি অল্প সময়ের মধ্যে রেজভীর উত্থান ঘটেছে। এমপির বদৌলতে তিনি সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক, হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক, আনসারী ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন। এখন জেলা যুবলীগের সভাপতি হতে চাইছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাদকাসক্ত রেজভীকে মদ খেয়ে শহরে বহুবার মাতলামি করতে দেখা গেছে। যেহেতু এমপির ঘনিষ্ঠ সেজন্য তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। জামায়াত পরিবারের সন্তান রেজভীর কারনে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। ভবিষ্যতে কখনো দলের জন্য খারাপ সময় এলে এই হাইব্রিডদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে