আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৮ ২১:৪১

জুতা তৈরির মেশিন থেকে ইয়াবা মেশিন !

অনলাইন ডেস্ক
জুতা তৈরির মেশিন থেকে ইয়াবা মেশিন !

কামরাঙ্গীর চর ঝাউলাহাটি হযরত নগর এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম। কিন্তু উদ্ধারকৃত মেশিন জুতা তৈরির কাজে ব্যবহার হয় এমনই দাবি আটককৃতদের পরিবারের। প্রধান আসামি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইমুর প্রতিবেশিরা জানান,ষড়যন্ত্র করে তাদের আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি শাহিন ফকির স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার ১৪ই মার্চ রাতে আটক ইমু আক্তারের প্রতিবেশি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জুতার কারিগর জানান, এরকম মেশিন কামরাঙ্গীর চর, নবাবগঞ্জ বাজার, ধোলাইখাল, নাজিরা বাজার ও বংশালের বিভিন্ন জুতা-সেন্ডেলের কারখানায় পাওয়া যায়। এ মেশিন দিয়ে জুতার ফাইবারে সিল ও নাম্বার দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী জেসমিন জানান, মার্চ মাসে নতুন ভাড়াটিয়া (ইমু ও আলমগীর)এসেছে । তবে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়া হয়নি এবং নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে তাদের তথ্য থানায় জমা দেয়া হয়নি।

আর তাদের মেশিন দিয়ে কোন কাজ করা হয় না। একজনের কাছ থেকে টাকা পাবেন তাই টাকা পরিশোধ না করায় ইমুর স্বামী আলমগীর মেশিন নিয়ে এসেছেন। যার মেশিন সে (সুমন- পুলিশের সোর্স )পুলিশকে দিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে বলে জেসমিন দাবি করেন।

এ বিষলে লালবাগ জোনের এসি (সহকারী কমিশনার)সালাহ উদ্দিন জানান, আটক ইমু ইয়াবা তৈরির বিষয় স্বিকার করেছে এবং কিভাবে তৈরি করা হয় তা পুলিশকে দেখিয়েছে। এসি সালাহ উদ্দিন  আরো জানান, তারা(ইমু ও তার স্বামী আলমগীর) বিদেশি মদ বলে ভেজাল মদ তৈরী করে বিক্রি করতো।

প্রতিবেদক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জুতার কারখানায় ও লোকাল লোহার মার্কেটে একই ধরনের মেশিনের সন্ধান পেয়েছেন। যা হুবহু কামরাঙ্গীর চর থানায় উদ্ধার হওয়া মেশিনের সঙ্গে মিল রয়েছে। যে মেশিনকে পুলিশ ইয়াবা তৈরির যন্ত্র বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে এবং মামলায় আটকের তালিকায় দেখানো হয়েছে।  

তাছাড়া এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক জিন্নাত তার ফেসবুকে লিখেছেন,

“১৪/৩/১৮ ইং তারিখ পুলিশ গ্রেফতার করেছিল আলমগীরের স্ত্রী ইমু আক্তারকে । ওই ঘটনায় আসামী করা হয় ইমু আক্তার, তার স্বামী আলমগীর ও বাড়িওয়ালা শহীদুলকে।তিনি তার স্টাটাসে লিখেন ঘটনার সময় টেবলেট উদ্ধারের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু মামলায় ১২৩ পিস ইয়াবা টেবলেট উদ্ধারের কথা লিখা হয়েছে।”

সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি তদন্ত বাবু বলেন, সাংবাদিকের সঙ্গে কোন খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। আমরা অপরাধ দমনে  সাংবাদিকদের নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করি। খারাপ ব্যাবহার করার প্রশ্নই আসে না। এছাড়া আটক ইমু আক্তার কারাগারে রয়েছে বলে জানান তিনি।

গত ১৫ তারিখ ডিএমপি নিউজ পোর্টাল সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে  উল্লেখ  করা হয়।গত বুধবার ১৪ই মার্চ রাত  সাড়ে ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  

গ্রেফতারকৃতের নাম, ইমু আক্তার (২৪)। গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ উপাদানসহ প্রস্তুতকৃত ১২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে তিন বোতল দেশী মদ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে,বাড়ির মালিক শহিদুল্লাহ ও গ্রেফতারকৃত ইমুর স্বামী আলমগীর পরস্পর যোগসাজশে ইয়াবা ট্যাবলেট প্রস্তুত করে বিক্রয় করত,তারা দুজনই পলাতক রয়েছে,তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছেন পুলিশ।

সাংবাদিক জিন্নাতের ফেসবুকে আইডিতে দেয়া বক্তব্য…

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে