আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৩৭

নবীনগরে আ.লীগ নেত্রী খুন; আসামীদের ধরতে এমপি বাদলের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

অনলাইন ডেস্ক
নবীনগরে আ.লীগ নেত্রী খুন; আসামীদের ধরতে এমপি বাদলের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

ব্রাক্ষণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার(৪০) খুনের ঘটনায় আসামীদের ধরতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় সংসদ ফয়জুর রহমান বাদল। নিহত স্বপ্না উপজেলা চারপাড়া গ্রামের মৃত লিল মিয়ার মেয়ে ও পাশ্ববর্তী মুরাদনগরের গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী। 

বৃহস্পতিবার বিকালে জিনদপুর ইউনিয়নের বড় বাঙ্গরা শাহী ঈদগাহ মাঠে নিহত স্বপ্না’র জানাজা নামাজ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তিনি একথা বলেন। জানাজা শেষে তাকে বাঙ্গরা চারিপারা কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান (পিপিএম), উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহীন তানভীর গাজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চিত্ত রঞ্জন পাল,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামালসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

এলাকাবাসি ও দলীয় সুত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়নের দশমোজা বাজারে ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে নিজ বাড়ি জিনদপুর ইউনিয়নের চারপাড়া গ্রামে যাওয়ার সময় বুধবার আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে নবীনগর-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের চারপাড়া ব্রিজের নিকট দুর্বৃত্তরা স্বপ্না আক্তারের মাথায় গুলি করে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বৃহষ্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের ভাই মো. আমীর হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করে।

পুলিশ মো.জাহাঙ্গীর নামে এক সিএনজি ড্রাইভারকে আটক করে। পূর্ব শুক্রতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে বলে এলাবাসি জানান। এ দিকে নিহতের এলাকায় বৃহষ্পতিবার সকালে এই ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

উল্লেখ্য: স্বপ্না আক্তার পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার পিতা মৃত লিল মিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী কৃষকলীগের সভাপতি ছিলেন। বাবার হাতধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসেন। খুব অল্প সময়ে রাজনীতিতে সাংগঠনিক মেধার পরিচয় দিয়ে ২০০১ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা হন। ২০১৪ সালে তিনি আবারও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা হন। ২০০৩ সাল নবীনগর পাশ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার নগরপার গ্রামের ব্যবসায়ী মো. গিয়াস উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের সুখের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তার নাম ইফরান উদ্দিন জয়। সে লাউরফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র । নিহতের ভাই আমীর হোসেন জানান, তার বোনকে এলাকার মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তাদের বিচার দাবী করেন।

পুত্র ইফরান উদ্দিন জয় বলেন, আমার আম্মার রাজনীতি করাই কি অপরাধ। আমাকে যারা এতিম করেছেন তাদের ফাসি চাই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে