আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৫৬

চট্টগ্রাম রেল বিভাগে পিয়ন সুমনের খুটির জোর কোথায়

রাজু আহমেদ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম রেল বিভাগে পিয়ন সুমনের খুটির জোর কোথায়

চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিটিএম অফিসের পিয়ন অলি উল্লাহ ওরফে সুমনের রাতারাতি কোটিপতি হওয়াসহ বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে নেমেছে দুদক। কিন্তু প্রভাব প্রতিপত্তি ও তার খুটির জোরে তদন্তের কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। পাহাড় সমান অভিযোগ মাথায় নিয়ে সে এখন দিব্যি ঘোরাফেরা করছে।

জানা যায়, পিয়ন অলি উল্লাহ ওরফে সুমনের ব্যাপক জাল-জালিয়াতি, অবাধে নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজিও ইয়াবা ব্যবসাসহ তার বিরুদ্ধে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরমধ্যে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করলেও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সিসিএম অফিসের এসিআই পদে দাপটের সাথে পদোন্নতি নিয়েছেন।

সর্বশেষ গত ১৫অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ফেনী যাবার পথে ৭৮৫নং ট্রেনে বিনা টিকেটের ১৯জন যাত্রিকে ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করায় কর্তব্যরত টিটিই আব্দুল কাদের ও ধীলন চৌধুরীকে মোবাইল ফোনে নিজেকে ‘সিসিএম অফিসের বিখ্যাত সুমন পরিচয় দিয়ে ০১৬৭২-৪১৩০৯২ ও ০১৭১১-১৬৩৯১১ থেকে ০১৭১২-২৮৪৪০২ নং মোবাইলে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও হুমকি প্রদর্শন করেন।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জিআরপি থানায় জিডি (নং ৬৮৮, ১৭.১০.২০১৭ইং) দায়ের করা হয়। ওই দিন কথিত ‘সিসিএম অফিসের বিখ্যাত সুমন এর শাস্তি চেয়ে ডিসিও চট্টগ্রাম বরাবর জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (সি) বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম এর পক্ষ থেকে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিএম (পূর্ব), সিসিএম (পূর্ব) ও ডিআরএম চট্টগ্রামের কাছে অভিযোগ করার পর সুমন ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্যে নানা তৎপরতা শুরু করে।

এসব অভিযোগের পরও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। সে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মিশ্রীপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র অলি উল্লাহ ওরফে সুমন স্থানীয় নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০সালের অষ্টম শ্রেণী পাসের কথিত সনদ দেখিয়ে ২০০৫সালের জানুয়ারী মাসে চট্টগ্রামের সিটিএম অফিসে পিয়ন পদে চাকুরি নেয়।

৫বছর পর ২০০৯সালের ডিসেম্বরে তার নিজ গ্রামের মিশ্রিপুর রাহমানিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ২০০৩সালে দাখিল পাসের (রোল নং ১২১৫৮৯, রেজিঃ নং ৬৭২৫০৫) সনদ নথিতে সংরক্ষণের আবেদন করেন। কিন্তু ২০০৫সালে চাকুরি গ্রহণকালে কেন দাখিল পাসের সনদ গোপন রেখে অষ্টম শ্রেণী পাসের সনদ নথিতে সংযুক্ত করেছেন তা- রহস্যজনক। যদিও ৮ম শ্রেণী পাসের সনদে মাতার নাম আনোয়ারা বেগম ও দাখিল পাসের সনদে আনোয়া খাতুন লিখা রয়েছে।

এছাড়া তার ফেইসবুক প্রোপাইলে স্কুলের নাম কিশোরগঞ্জের শহীদ স্মৃতি হাইস্কুল ও কলেজের নাম গুরু দয়াল সরকারি কলেজ লেখার বিষয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পিয়ন থেকে পদোন্নতি নিয়ে এখন তিনি সিসিএম অফিসের এসিআই। সে কখনও অফিসে দায়িত্ব পালন না করে শুধু খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

এর প্রতিবাদ করলে কর্মকর্তাদের কে অশ্লিল ভাষায় গালি-গালাজ, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুমনের বড় ভাই আবুল বশর চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিআরইএল এর সদর দপ্তর (পূর্ব) এর জামায়াতে ইসলামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার পরিবারের সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। সে জামায়াত শিবিরের পরিবারে জন্ম হলেও সুবিধা আদায়ের জন্যে চট্টগ্রাম সিআরবি শ্রমিকলীগের সাথে রাজনীতি করছে।

এছাড়া সুমন চট্টগ্রাম দি রেলওয়ে মেন্স স্টোরস্ লিমিটেডের পরিচালক হওয়ার সুবাদে রেলওয়ের কর্মচারিদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে হাতিয়ে নেয় কয়েক লক্ষ টাকা। এখনও শেয়ার বিক্রির কাগজপত্র হাতে দেয়া হয়নি। সম্প্রতি পত্রিকায় শেয়ারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর এখন শেয়ার হোল্ডারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত একহাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাদেরকে মানি রিসিট দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে সুমনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে সুমনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। চট্টগ্রাম রেলওরে চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার সরদার সাহাদাত আলী জানান, অলি উল্লাহ সুমন নিয়মিত অফিসে দায়িত্ব পালন করেনা। তবে সুমনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে