আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:৩৮

প্রেমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রেমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রেমিকাকে গণধর্ষণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গিধাউষা এলাকায় প্রেমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে কিশোরী প্রেমিকাকে (১৫) গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও, এ নিয়ে কোনো মামলা হয়নি। 

বুধবার (১১ অক্টোবর) উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের গিধাউষা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই প্রেমিক খায়রুল ইসলাম, তার বন্ধু সোহেল মিয়া এবং ধর্ষিত কিশোরীর কোনো খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে স্বজনরা। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরাও গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী। তবে স্থানীয়দের দাবি, লোকলজ্জা ও ধর্ষকদের হুমকির কারণে তারা তিনজনই কোথাও আত্মগোপন করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মনাকান্দা গ্রামের রশিদ মিয়ার মেয়ের সঙ্গে গৌরীপুর 

উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের পেঁচাঙ্গিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলামের সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মনাকান্দা গ্রামের রশিদ মিয়ার মেয়ের দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলছিলো। তবে তা মোবাইল ফোনে কথাবার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু গত বুধবার রাতে সহনাটি এলাকায় সেই মেয়েটি তার খালার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ওই দিন রাতেই নির্যাতিত মেয়েটি তার প্রেমিক খায়রুলের সাথে দেখা করতে বাইরে বের হয়।

তখন খায়রুলের সঙ্গে ছিলো একই এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে রিকশাচালক সোহেল মিয়া। কিন্তু দেখা করার এ পর্যায়ে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে কিছু বখাটে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে।

এদিকে রিকশাচালক সোহেল মিয়া নিখোঁজের সত্যতা নিশ্চিত করে তার স্ত্রী লিপা আক্তার জানান, গত বুধবার থেকে তার স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। স্বামী ও তার বন্ধুকে বেঁধে কিশোরীকে ধর্ষণের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। তবে বাড়িতে পুলিশ এসে সোহেলের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে গেছে। 

অন্যদিকে খায়রুল ইসলামের আত্মীয় স্বজনরা জানায়, কিছুদিন ধরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মনকান্দা গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে খায়রুলের প্রেম চলছিলো। পরে গত বুধবার রাতে সেই কিশোরী ও এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সহনাটি যাওয়ার পথে গিধাউষা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে। এসময় খায়রুল নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেও দুর্বৃত্তরা তাদের মারধর করে। এক পর্যায়ে খায়রুল ও সোহেলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে তাদের সামনেই ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত রবিবার (১৫ অক্টোবর) গিধাউষা গ্রামে সালিশ ডাকলেও অভিযুক্তরা কেউ সেখানে আসেনি। পরে ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী ধর্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তপন মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গফুরের ছেলে পলিশ উদ্দিনের দোকানে তালা লাগিয়ে দেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ধর্ষিত কিশোরীসহ দুই যুবককে উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই একজনকে ধরলেই মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সোহেলের মা রওশন আরা জানান, পেঁচাঙ্গিয়া গ্রামের খাইরুল গত বুধবার রাতে সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার খাইরুল বাড়িতে এসে আমাকে বলে, ‘আপনার ছেলেকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় গিধাউষা গ্রামে ফেলে রেখেছে। সোহেল আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। তার পরিণতি খুব খারাপ হবে।’

পরে সোহেলের বাবা গিধাউষা গ্রামে গিয়ে সন্তানের কোনো খোঁজ পাননি। এমন কি তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে অজ্ঞাত কারণে সোহেলের পরিবার এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা জিডি করেননি।

সহনাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষিত কিশোরীর খালার বাড়ি আমার গ্রামেই। তারা আজ আমার কাছেও এসেছিলো। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের লোকজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নিখোঁজ কিশোরীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। 

এ বিষয়ে গৌরীপুর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আইনজীবী আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, নির্যাতিতরা নিখোঁজের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ঘটনা যাই হোক পুলিশের উচিত দ্রুত নির্যাতনের শিকার কিশোরীসহ সবাইকে উদ্ধার করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা।

উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রাবেয়া ইসলাম ডলি বলেন, ভিকটিম উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ওই রাতে আসলে কি ঘটে ছিল তা সঠিক বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সাতদিন পরেও পুলিশ এখনো তাদের উদ্ধার করতে পারেনি। বিষয়টি খুব দুঃখজনক। আর গ্রামে যেহেতু নির্যাতনের বিষয়টা বলাবলি হচ্ছে সেক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের উচিত তদন্ত করে প্রকৃত সত্যটা প্রকাশ করা।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি  দেলোয়ার আহম্মদ জানান, তিনিও ধর্ষণের বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে পুলিশ নির্যাতিতদের উদ্ধার করতে অভিযান চালাচ্ছে। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে