আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০১৭ ২০:৫১

এসআইয়ের ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি লাগবে, তাই...!

অনলাইন ডেস্ক
এসআইয়ের ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি লাগবে, তাই...!

১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও, কুড়িগ্রামে শিশু আরজিনা অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, এক এসআইয়ের ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তাকে অপহরণ করা হয়। আর এ কারণেই মামলা নিয়ে গড়িমসি করেছে পুলিশ। এ অবস্থায়, দায়ীদের বিচার নিয়ে শঙ্কায় স্বজন ও এলাকাবাসী। তবে তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

১৩দিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা কাটলো বাবা মায়ের। পরিবারে ফিরতে পেরে আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে এসেছে শিশু আরজিনাও।

স্বজনদের অভিযোগ, চকলেট দেয়ার কথা বলে গত ৬ই আগস্ট কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার রূপারখামার গ্রামের আক্কাছ আলীর মেয়ে আরজিনাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায় প্রতিবেশী আয়েশা বেগম। তাকে সাহেব আলী নামে একজনের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর আরজিনার মাথা ন্যাড়া করে নাম বদলে নিয়ে যাওয়া হয় রংপুরে পুলিশের এসআই আবু বকরের বাসায়।

পরদিন পরীক্ষার জন্য তাকে এক হাসপাতালে নেয়ার পর, সন্দেহ হওয়ায় উলিপুরের ধরণীবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান এক চিকিৎসক। গত ১৯শে আগস্ট পুলিশের সহযোগিতায় আরজিনাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সাথে এসআই বকর জড়িত থাকায় মামলা নিতে গড়িমসি করে থানা পুলিশ।

আরজিনার স্বজনরা বলেন, 'আয়েশা আরজিনাকে নিয়ে গিয়ে ওর ভাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে। এসআই আবু বকরের ছেলের দুইটা কিডনিতেই সমস্যা। তার কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্যই আজিনাকে অপহরণ করা হয়েছে।'

অভিযুক্ত এসআই আবু বকর বর্তমানে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় কর্মরত। এ অবস্থায়, তদন্তে দোষ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল সাঈদ।

তিনি বলেন. 'মেয়েটা তার বাসায় ছিলো বলে আমাদের কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে। আসল ঘটনাটা কি এটা খুঁজে দেখতে হবে।'

এদিকে এমন ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইলেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায়, গতকাল ২২শে আগস্ট অভিযুক্ত আয়েশা বেগম, সাহেব আলী ও এসআই আবু বকরের স্ত্রী নাজমা বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আরজিনার বাবা। এরপর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে