আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০১৭ ২১:৩৮

‘এই চরে যে মানুষ থাকে সেটা মনে হয় কেউ জানেই না’

অনলাইন ডেস্ক
‘এই চরে যে মানুষ থাকে সেটা মনে হয় কেউ জানেই না’

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলাসহ সাত উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নঞ্চলে পানিবন্দি চার লাখ মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও ব্যক্তিগতভাবে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তা একেবারেই অপ্রতুল বলে অভিযোগ বানভাসীদের। ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গাইবান্ধার বালাসীঘাটের উত্তরে সাতার চরের আজাদুল, রহিম, ফরিদসহ বানভাসীরা বলেন, ‘এই চরে যে মানুষ থাকে সেটা মনে হয় কেউ জানে না। চরের দুইশ’ মানুষ খেয়ে না খেয়ে আছে, অথচ কেউ কোনও ত্রাণ দিল না।’ 

একই অভিযোগ করে বালাসি ঘাটের বাঁধে আশ্রয় নেওয়া জাহানারা বেগম বলেন, ‘বানের পানিতে তিন দিন ঘরে থাকতে পেরেছি। পানি বেশি বাড়ায় বাঁধে আসছি। স্বামীর কামকাজ নাই, ঘরে খাবার নাই। মেম্বার, চেয়ারম্যান কেউ আইলো না। কোনও খাবারও পাই না। না খেয়ে কয়দিন থাকবো।’

এছাড়া পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে জর, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগ। কিন্তু দুর্গত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত চিকিৎসা সেবাও চাহিদার তুলনায় একেবারে কম।

কাইয়াহাট স্কুলের সামনে আশ্রয় নেওয়া রহিমা বেগম বলেন,‘১০ দিন ছাপড়ার তলে আছি। তিন দিন ধরে খাবার নাই। আশপাশের কেউ দিলে খাই না দিলে খাই না। কেউ এবার চাল দিল না। তাছাড়া হাত-পায়ে ঘা ধরছে, ডাক্তারের ওষুধ পাচ্ছি না।’

একই জায়গায় আশ্রয় নেওয়া আতোয়ার বলেন, 'দুই ছেলের বউয়ের জ্বর। সরকারি কোনও ডাক্তার বা ওষুধ পাইনি। তাই বাজারের ডাক্তারের কাছে গিয়ে ওষুধ আনছি।'

এদিকে, বানভাসী মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে দেখা দিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানের ভাঙন। এবারের বন্যার পানির চাপে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২০টি জায়গা চরম ঝুঁকিতে আছে। শহর রক্ষায় ডেভিট কোম্পানিপাড়ার বাঁধ ও সিংড়া-রতনপুরসহ ৫টি পয়েন্টের বাঁধ যে কোনও মহূর্তে ভেঙে শহরসহ আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে স্থানীয়রা। 

এরইমধ্যে গত তিন দিনে গোবিন্দগঞ্জ,পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েক জায়গা ধসে গেছে।  এর ফলে এসব উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের সহায়তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে ৬২৬ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৪ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। 

জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানা গেছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় ৫০টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। ৩-৪ জনের সমন্বয়ে এসব টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। এসব টিম জেলার দুর্গত এলাকার মানুষের কাছে গিয়ে সাস্থ্য সেবা ও ওষুধ বিতরণ করবে। 

জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, বন্যার পর থেকে বানভাসীদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভেঙে পড়ায় বানভাসীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে সময় লাগছে। পর্যায়ক্রমে সব বানভাসীদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। 

তিনি আরও জানান, ত্রাণের কোনও সঙ্কট নেই। চালসহ নগদ টাকা মজুদ আছে। এছাড়া নতুন করে আরও বরাদ্দ চেয়েও আবেদন করা হয়েছে। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে