আপডেট : ১১ জানুয়ারী, ২০১৭ ২১:৪১

আত্মগোপনে থেকেও পার পায়নি ধর্ষক মিশু!

অনলাইন ডেস্ক
আত্মগোপনে থেকেও পার পায়নি ধর্ষক মিশু!

খাগড়াছড়িতে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার এক আসামিকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ধর্ষণের পর গত তিন মাস ধরে মিশু বড়ুয়া (৩০) নামে ওই আসামি চট্টগ্রাম নগরীতে এসে আত্মগোপন করেছিল। বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর বিআরটিসির সামনে থেকে মিশুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন পিবিআই, চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। মিশু বড়ুয়া খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকার দুলাল বড়ুয়ার ছেলে।

পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, খাগড়াছড়ির এক তরুণীকে দুইদিন ধরে হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে মিশুসহ চার যুবক।  খাগড়াছড়ির সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা হয়।  ওই মামলায় থানা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা মিশুকে গ্রেফতারে অভিযান চালাই।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে গত ৭ জানুয়ারি আসামি গ্রেফতারে সহযোগিতার আবেদন করেন খাগড়াছড়ি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মাসুদ আলম চৌধুরী।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিতা তরুণীর বাড়ি খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার দক্ষিণ গঞ্জপাড়া গ্রামে।  ক্রস কানেকশনের মাধ্যমে মাহমুদুল হাসান নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়।

গত বছরের ১ অক্টোবর নানীর বাড়ি যাবার সময় দক্ষিণ গঞ্জপাড়া ব্রিজের কাছ থেকে তরুণীকে মোটর সাইকেলে তুলে খাগড়াছড়ির কুমিল্লাটিলায় হোটেল ইকোছড়ি-ইনে নিয়ে যায়।  মাহমুদুল হাসান এবং তার বন্ধু মিশু ও হোসেন হোটেলের কক্ষে ওই তরুণীকে জিম্মি করে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরদিন মাহমুদুল হাসান ও তার বন্ধু সুমন মিলে ওই তরুণীকে শাপলা চত্বরে হোটেল ফোরস্টারে নিয়ে যায়।  সেখানেও দুজন মিলে তরুণীকে ধর্ষণ করে।

৩ অক্টোবর ফোরস্টার হোটেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহমুদুল হাসানকে গ্রেফতার করে এবং তরুণীকে উদ্ধার করে।  এই ঘটনায় তরুণীর বড় বোন বাদি হয়ে খাগড়াছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, চার যুবকই ইয়াবা আসক্ত।  ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর মিশু চট্টগ্রাম নগরীতে এসে আত্মগোপন করে।  গ্রেফতারের পর তাকে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপরে