আপডেট : ১০ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:০০

বাঘায় হালখাতার মিষ্টি খেয়ে অর্ধশাতাধিক মানুষ অসুস্থ

বিডিটাইমস ডেস্ক
বাঘায় হালখাতার মিষ্টি খেয়ে অর্ধশাতাধিক মানুষ অসুস্থ

রাজশাহীর বাঘায় হালখাতার মিষ্টি খেয়ে অর্ধশাতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে দোকান মালিক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। অসুস্থরা উপজেলার রুস্তম বাজার আশ-পাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা।

অসুস্থদের মধ্যে-অনিকা খাতুন (৩), কাজলী খাতুন (১৩), আরিফ হোসেন (৩৫), ইউসুফ আলী (৪০), নজরুল ইসলাম (৩২), লিপি বেগম (২২), রুপা খাতুন (১৭), রানা হোসেন (৩০), শরিফ হোসেন (৩৪), রাকিব হোসেন (২১), রিফাত হোসেন (২৩), সুনিল কর্মকার ((২২), সাইদুল ইসলাম (৩৪), মিঠু হোসেন (২৩), সেন্টু হোসেন (৩৪), মৌসুমি খাতুন (২৩), তুফান হোসেনসহ (৩৫) অর্ধশতাধিক।

জানা গেছে, উপজেলার রুস্তমপুর বাজারে চার রাস্তার মোড়ে লালন উদ্দিনের মুদিখানার দোকানে এলাকার রুস্তমপুর, ভারতিপাড়া, জোতরঘু, কালুহাটি, সোনাহদ, পান্নাপাড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ হালখাতা করে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে যায়। পরে এ মিষ্টি নিজ নিজ পরিবারের লোকজন খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জোতরঘু গ্রামের আহত ইউসুফ আলী জানান, তার দোকানে আমার বাঁকি ছিল। বাঁকি টাকা পরিশোধ করলে দোকানদার একটি মিষ্টির প্যাকেট দেয়। এ মিষ্টি বাড়িতে নিয়ে এসে পরিবারের লোকজনের সাথে খায়। খাওয়ার পর রাত ১২টার পর থেকে পেটেরে মধ্যে ভূটভাট শুরু করে।

পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে কিছুটা ভালো। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ্য হয়নি বলেও জানান তিনি। এমন কথা বলেন, একই এলাকার হাসনা বানু, আউব আলী, আরিফুল ইসলাম, সাহাবুল হোসেন, রাকিবুল হোসনসহ একাধিক ব্যক্তি।

রুুস্তমপুর বাজারের স্থানীয় পল্লী চিকিৎস প্রহল্লাদ কর্মকার বলেন, ‌ওই দোকানের হালখাতার মিষ্টি খেয়ে আমার কাছে ১০ থেকে ১৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছি। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।'

অপর পল্লী চিকিৎসক আকসেদ আলী বলেন, আমার কাছে ৮ থেকে ১০ জন পাতলা পায়খানা হচ্ছে মর্মে রোগী এসেছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি।

আড়ানী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিটন হোসেন বলেন, এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে স্থানীয় ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানি। তবে তার পর থেকে লালন উদ্দিনের দোকান বন্ধ রয়েছে। তাকে আর খুৎজে পাওয়া যাচ্ছে না। 

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার জাহিদ হোসেন জানান, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এ ধরনের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ধীরেন্দ্রনাথ জানান, এ ধরনের কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেডএম

উপরে