আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০১৬ ১২:৫৯

নাটোরে ৫ জেএমবির যাবজ্জীবন

বিডিটাইমস ডেস্ক
নাটোরে ৫ জেএমবির যাবজ্জীবন

নাটোরে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক প্রদীপ কুমার এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলেন-আব্দুর রশিদ, দেলোয়ার হোসেন মিঠু, হাফিজুর রহমান হাফিজ, শিহাব উদ্দিন শিহাব ও আব্দুল মতিন ওরফে ইসমাইল।

খালাস প্রাপ্তরা হলেন-শহীদুল্লাহ্ ওরফে ফারুক, শফিউল্লাহ্ ওরফে তারিক। এদের মধ্যে শহীদুল্লাহ্ অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ও শফিউল্লাহ্ মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি।

এছাড়া এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি হাফিজুর রহমান ও আব্দুল মতিন অপর একটি মামলায়ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পেয়েছেন।

নাটোর জজ কোর্টের এপিপি খন্দকার আবদুল হাই জানান, আলোচিত এই মামলায় ১১ বছর ধরে ৬২ জন  সাক্ষীর মধ্যে ৪২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তি তর্ক শেষে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় প্রথমে ৭ মার্চ, দ্বিতীয় ধাপে ২৩ মার্চ রায়ের দিন ধার্য্য করেন। ২৩ মার্চ আসামিদের মধ্যে ছয়জনকে রাজশাহী ও নাটোর কারাগার থেকে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতের এজলাসে আনা হয়। কিন্তু অপর আসামি শফিউল্লাহ্ ওরফে তারিক অনুপস্থিত থাকায় বিচারক ২৮ মার্চ পুনরায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য করেন।

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে নাটোরের জজ কোর্ট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ট্রেজার, বাসস্ট্যান্ড, ফিলিং স্টেশনসহ আট স্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এসব স্থানে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) লিফলেট পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে নাটোর থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ওই দিনই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করেন।

পরে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর গোদাগাড়িতে জেএমবি সদস্য শহীদুল্লাহ্ তারেক ওরফে তুষার জেহাদি বই, লিফলেট ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নাটোর শহরের মীরপাড়া জেএমবির আস্তানায় নাটোর ও রাজশাহী জেলার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে নাটোরের মীরপাড়ায় জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় অপারেশন হেডকোয়ার্টার খাদেমুল ইসলামের তিনতলা ভবন থেকে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে জেএমবি সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধ হয়।

জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুর রহমানের জামাতা আব্দুল অওয়ালসহ অন্যরা বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ সেখান থেকে জেহাদি বই, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, বিস্ফোরক দ্রব্য, হিট লিস্ট উদ্ধার করে।

২০০৬ সালের ১৬ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান আদালতে এই সিরিজ বোমা হামলা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে একই বছরের ২৯ নভেম্বর বিচার কাজ শুরু হয়।

এ মামলার আসামি শহীদুল্লাহ তারেককে অন্য জেলায় অপর একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং হাফিজুর রহমান ও আব্দুল মতিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে