আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০১৬ ০৯:২৭
ইউপি নির্বাচন

ইউএনওর চেয়ারে বসে মনোনয়নপত্র দিলেন এমপি

বিডিটাইমস ডেস্ক
ইউএনওর চেয়ারে বসে মনোনয়নপত্র দিলেন এমপি
আচরণবিধি উপেক্ষা করে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের চেয়ারে বসে দলীয় প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র তুলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ তানোরের বিভিন্ন ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সেখানে প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছি। সংসদ সদস্য হিসেবে সেখানে আগে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলাম। এতে কোনো আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠান শেষে ওমর ফারুক চৌধুরী দলবলসহ ঢুকে পড়েন তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে। সেখানে ইউএনওর চেয়ারে বসে তিনি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, ইউএনও মামুনুর রশীদ, তানোর থানার ওসি (তদন্ত) আবদুস সবুরসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
যাদের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেয়া হয় তারা হলেন- কলমা ইউপির লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, বাঁধাইড় ইউপির আতাউর রহমান, পাঁচন্দর ইউপির আবদুল মতিন, সরনজাই ইউপির আবদুল মালেক, তালন্দ ইউপির আবুল কাশেম, কামারগাঁ ইউপির মোসলেম উদ্দিন এবং চাঁন্দুড়িয়া ইউপির মজিবুর রহমান। ইউপি নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ১০ মার্চ এসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুুষ্ঠিত হবে।
 
এ ঘটনাকে নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লংঘন উল্লেখ করে তানোর উপজেলা নির্বাচন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, সংসদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বসে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করতে পারেন না। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানোর কথা বলেন তিনি।
 
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমরান আলী মোল্লা বলেন, একজন সংসদ সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে বসে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করতে পারেন না। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির লংঘন। ফারুক চৌধুরী এমপি
 
নির্বাচনে প্রভাব খাটাচ্ছেন দাবি করে মোল্লা আরও বলেন, তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী কাজ করছেন। এতে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি দ্রুত এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, এমপি উপজেলা পরিষদের এক অনুষ্ঠান শেষে তার অফিসে বসে চা-চক্রের পর দলীয় প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দিয়েছেন। এতে ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধি লংঘন হয়েছে কি-না তা তিনি জানেন না বলে জানান।
 
সূত্র-যুগান্তর
 
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম
উপরে