আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪৩

ডাক্তার এক্সরে রিপোর্ট দেখলেন, হাড়ের ভাঙন দেখলেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডাক্তার এক্সরে রিপোর্ট দেখলেন, হাড়ের ভাঙন দেখলেন না

খেলতে গিয়ে হাড় ভেঙ্গেছে সৌরভের। এক্সরে রিপোর্টেও ছিল স্পষ্ট ভাঙ্গনের ছাপ কিন্তু চোখে পড়ল না চিকিৎসকের। তাই সৌরভকে অন্য ওষুধ লিখে পাঠিয়ে দিলেন। আর এতে অবস্থা্র অবনতি ঘটেছে সৌরভের।  

এমনি ভুল চিকিৎসার স্বীকার হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  নবীনগর উপজেলা সৌরভ  প্রসাদ চক্রবর্ত্তী (৯)। সৌরভ নবীনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিনের নবীনগর প্রতিনিধি শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী শ্যমলের ছেলে।

সৌরভ এর মাতা মনিকা প্রসাদ জানান, সৌরভ খেলতে গিয়ে সোমবার ডান হাতে আঘাত পায়। এরপর তাকে স্থানীয় মা নামের প্রাইভেট হাসপাতাল চিকিত্সার জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক্সরে করার পর ওই হাসপাতালের চিকিত্সক এম এ রশিদ জানান তার হাত ভাঙ্গেনি। এরপর ঔষধ লিখে দেন ৷ ঐদিন রাতে সৌরভের হাতে প্রচন্ড ব্যাথা ও হাত ফুলে গেলে পরদিন মঙ্গলবার তাকে সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সায়েমুল হুদা এক্সরে রিপোট দেখে হাত ভাঙ্গার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে শিশুটির আঘাত প্রাপ্তস্থান ফুলে যাওয়ায় চিকিত্সকরা তার হাতে অতি প্রয়োজনীয় প্লাস্টার করতে পারছেননা।

এ ব্যাপারে সৌরভের পিতা শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী ওই হাসপাতালে ভুল চিকিত্সার ঘটনাটি তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উলেখ্য নবীনগরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে প্রাইভেট হাসপাতাল। আর এই হাসপাতাল গুলিতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ভুল চিকিত্সার শিকার হয়ে জীবনও দিতে হয়েছে কাউকে কাউকে। এনেসেসিয়া ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ছাড়াই চলছে বিভিন্ন অপারেশন ৷

এ বিষয়ে মা হাসপাতালের আরেক ডা: দিনেশ চন্দ্র দেব নাথ ও হাসপাতালের পরিচালকদের একজন বাবুল সওদাগর বলেন ডা: এম এ রশিদের এটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল হাত ভেঙ্গেছে ঠিকই।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুল ইসলাম বলেন আমি অভিযোগ পেয়েছি এবং তাৎক্ষনিক হাসপাতালের চিকিত্সক ডা: এম এ রশিদ কে দেখা করার কথা বলি কিন্তু হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছেন ওই চিকিত্সক ছুটিতে আছেন ৷ তবে আমি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করব ৷

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: ইউনুস মিয়া বলেন নবীনগরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে উঠেছে৷ এমনকি এনেসেসিয়া ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ছাড়াই চলছে বিভিন্ন অপারেশন।  

উপরে