আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৬ ১২:০৩

উৎসব মুখর পরিবেশে আশুগঞ্জের ৭টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু

বিডিটাইমস ডেস্ক
উৎসব মুখর পরিবেশে আশুগঞ্জের ৭টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু

উৎসব মুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ৭টি ইউনিয়নে আজ প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মোট ২৯জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, সাধারন সদস্য পদে ১৮৪জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৫জন নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করছেন।

৭টি ইউনিয়নের ৬৩টি কেন্দ্রে মোট ৯৩ হাজার ৬শ ১৩জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৭ হাজার ৯শ ৬৭জন ও মহিলা ভোটার ৪৫ হাজার ৬শ ৪৬জন। এর মধ্যে ৬৩জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৯১জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৫৮২জন পোলিং অফিসার নির্বাচেন দায়িত্ব পালন করছেন। পুরুষ ভোটার ৪৭ হাজার ৯শ ৬৭জন ও মহিলা ভোটার ৪৫ হাজার ৬শ ৪৬জন।

এদিকে,৭টি ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্রই ঝুকিপূন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষনা করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে মোট ৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্রকেই ঝুকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তারা। আর এ জন্য নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার লক্ষে কাজ করছে প্রশাসন।

এ জন্য ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহীনির সমন্বয়ে নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা বাহীনি দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে মোট ৪জন নির্বার্হী ম্যাজিষ্টেট নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ১জন এডির নেতৃত্বে ২প্লাটন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নেই বিজিবির ৭ থেকে ৯জন সদস্যে একটি টীম দায়িত্ব পালন করবেন।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে টীম কাজ করবে। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেই তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিবে ম্যাজিস্টেট গন। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রসহ একটি করে আইন শৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের টীম দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে উপজেলার চর চারতলা, আড়াইসিধা, তালশহর, লালপুর, দূর্গাপুর, শরীফপুর ও তারুয়া ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহন।

এর মধ্যে উপজেলার চর চারতলা, আড়াইসিধা, তালশহর, লালপুর, দূর্গাপুর, শরীফপুর ও তারুয়া ইউনিয়নের নির্বাচনে অধিকাংশ স্থানেই মূল প্রতিদন্দ্বিতা হবে আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। তবে অধিকাংশ স্থানেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শক্তিশালী প্রার্থী দিতে না পারায় প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে চর চারতলা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে আইয়ুব খান, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে জিয়া উদ্দিন খন্দকার ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ফাইজুর রহমানের মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে।

দূর্গাপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে জিয়াউল করিম খান সাজু, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে জাকির হোসেন বাদল, চশমা প্রতীকে মোয়াজ্জেম হোসেন মাজু ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে হাজী মোঃ মিজান খানের মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। আড়াইসিধা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে সেলিম মিয়া, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে মোবারক হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। তালশহর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে হাজী মোঃ আবু সামা, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে বজলুর রহমান ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে গোলাম নবী হামদরু মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে।

লালপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে মুর্শেদ মাষ্টার, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে আবুল খায়েরের মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। তারুয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে ইদ্রিস হাসান, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে বাদল সাদিরের মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে।

শরীফপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে সাইফ উদ্দিন চৌধুরী ও সতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে সুমন চৌধুরীর মধ্যে মূল প্রতিদিন্ধতা হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকিত বিদ্রোহী ও বিএনপি প্রার্থীরা।

তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা অধিকাংশ স্থানেই দলীয় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং প্রার্থীদের লোকজনকে হুমকি দামকি দিচ্ছেন। তাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে প্রশাসনের কঠোর মনোবানের কথা জানান তারা। নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন তারা হলেন দূর্গাপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৫জন প্রার্থী। দূর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামলীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে জিয়াউল করিম খান সাজু, বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে মিজান খাঁ, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে নাজমুল হক, ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে জাকির হোসেন, চশমা প্রতীকে মোয়াজ্জেম হোসেন মাজু। এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ২৭জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ১০জন।

চরচারতলা ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৩জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগরে মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে আইয়ূব খান, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী আনারস প্রতীকে জিয়া উদ্দিন খন্দকার, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ফাইজুর রহমান।

এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ২৯জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ৮ জন। তালশহর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে হাজী মোঃ আবু সামা, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে গোলাম নবী খান, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে বজলুর রহমান। এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ২৭জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ৩জন।

আড়াইসিধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৪জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে সেলিম মিয়া, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে কামরুল হাসান মোবারক, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ইউনুছ ভূইয়া, সতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকে শাহপরান। এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ২৫জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ৭জন।

তারুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৬জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৗকার প্রতীকে ইদ্রিস মিয়া, আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে বাদল সাদির, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে কবির হোসেন, জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে শেখ হিরা মিয়া মুন্সী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রজনীগন্ধা প্রতীক নিয়ে জাবেদ করিম, মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে এইচ.এম. সারওয়ার ই আজম বাবুল। এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ২২ জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ৯জন।

শরীফপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৫জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকার প্রতীকে সাঈফ উদ্দিন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে আব্দুল আওয়াল, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে আতাউর রহমান ফারুখ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে সুমন মিয়া, তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ২৩জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ৭জন। লালপুর ইউনিয়নচেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমাদেন ৩জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে মোর্শেদ মাষ্টার, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে আসকর দেওয়ান জামাল, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে আবুল খায়ের। এ ছাড়া সাধারন সদস্য পদে ৩০জন ও সংরক্ষিত সাধারন সদস্য পদে ০৮জন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে