আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৬ ০৯:৩৪

৬ বছর শিকলবন্দী মেধাবী আনজু

বিডিটাইমস ডেস্ক
৬ বছর শিকলবন্দী মেধাবী আনজু

আনজু আরা খাতুনের বয়স তখন ১০ বছর। পড়াশোনা করতো পঞ্চম শ্রেণিতে। সে স্বপ্ন দেখতো শিক্ষকতা করার। কিন্তু দরিদ্রতার কষাঘাতে তার সেই স্বপ্ন আজ স্মৃতির পাতায় ভাসছে। তাকে জোর করে একজনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে রাখায় হতাশা থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। চিকিত্সার অভাবে ছয় বছর ধরে শিকলে বন্দি সে। তার বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লালদীঘি বানিয়াপাড়া গ্রামে। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে গৃহকর্মী হিসেবে তাকে নাটোরে একজনের বাসায় দেয়া হয়। এরপর আর ওই গৃহকর্তা তাকে তার বাবা-মায়ের কাছে আসতে দিতেন না।

বাবা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, সর্বশেষ ২০০৯ সালের শেষের দিকে গৃহকর্তা প্রফেসর আব্দুল মতিন তাকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেন। মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখেন সে তাকে চিনতে পারছে না। সব সময় হাসছে আর এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করছে। এ বিষয়ে প্রফেসর মতিনকে বললে তিনি বলেন- কোনো সমস্যা নেই। বহুদিন ধরে সে বাবা-মায়ের মুখ না দেখায় এ রকম করছে। বাড়িতে নিয়ে যান ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তাকে বাড়িতে আনার পর সে কাউকে চেনে না। সবাইকে মারধর করে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গ্রামের মানুষ দেখলেই সে হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই ঢিল ছুঁড়ে। এ কারণে তাকে বেঁধে রেখেছি। তিনি বলেন, আমার কোনো জমি নেই। একটি স্কুলে পিয়নের চাকরি করি। মেয়েটির চিকিত্সার পেছনে বেতনের চেকটিও অন্যের কাছে বন্ধক রেখেছি। এখন আমি নিঃস্ব। মেয়েকে চিকিত্সা করার মতো কোনো টাকা নেই।  উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আখতার বলেন, আমি মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাকে শিকলে বেঁধে রাখা দেখে খুব খারাপ লেগেছে। চিকিত্সা করলে সে ভালো হবে। সরকারিভাবে তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করবো।

সূত্র-ইত্তেফাক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে