আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৬ ১১:৫৪

দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে দশে দশ আওয়ামী লীগ

বিডিটাইমস ডেস্ক
দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে দশে দশ আওয়ামী লীগ

পৌর নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দশ পৌরসভার সবগুলোতেই মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
বিক্ষিপ্ত সহিংসতা আর বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে রোববার এই ভোটে কেনো পৌরসভাতেই বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা জয় পাননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নায়ার কবিরই রোববারের ভোটে নির্বাচিত একমাত্র নারী মেয়র।

গতবছর ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌরসভায় হওয়া প্রথম দফার ভোটেও ভরাডুবির মুখে পড়ে বিএনপি।

দ্বিতীয় দফায় রংপুরের হারাগাছ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, ঝালকাঠী সদর, নোয়াখালীর কবিরহাট, কুমিল্লার নাংগলকোট, ফরিদপুরের ভাংগা, কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী, ফেনীর সোনাগাজী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় ভোট হয় রোববার।

ভোটগ্রহণ শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা পর কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাকি আট পৌরসভায় মাঠের লড়াইয়ে ছিলেন তারা।

ভোটের সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি কেন্দ্রে হামলা ও ব্যালটপেপার লুটের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংর্ঘষে অন্তত ১৭ জন আহত হন।

এছাড়া ভোটে অনিয়মের অভিযোগে নোয়াখালীর কবিরহাটের ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীপুর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

প্রথম দফার ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে ২২৭টির ফল ঘোষণা হয়, যার ১৭৭টিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ এবং ২২টিতে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে নির্বাচিত মেয়রদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনুপাত দাঁড়ালো- ১৮৭ : ২২।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেবল জাতীয় পার্টির একজন প্রথম দফায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। যে ২৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার ১৮ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

আমাদের প্রতিনিধির কাছে থেকে পাওয়া সর্বশেষ ভোটের ফলাফল:

রংপুর

রংপুরের হারাগাছ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাকিবুর রহমান মাস্টার মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন।

রোববার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে হাকিবুর পেয়েছেন ১২ হাজার ২৪২ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম সরকার ফারুক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৪ ভোট।

পৌরসভার মোট ভোটার ৪৬ হাজার ২০৫ জন। ২০টি কেন্দ্রের সবকটিতে ভোটগ্রহণ হয়।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের জহিরুল হক রায়হান মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার রাতে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন ভোটের ফল ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, নৌকা প্রতীকে জহিরুল হক রায়হান পাঁচ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হযেছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪০ ভোট।

এই পৌরসভায় মোট ভোটার ১৩ হাজার ৩৯৭ জন। অনিয়মের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৩০১৯।

দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান এর চেয়ে বেশি হওয়ায় ফলাফল জহিরুল হক রায়হানকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মকছেদ আলি জয়ী হয়েছেন।

রোববার রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য জানান।

নৌকা প্রতীক নিয়ে মকছেদ আলী পেয়েছেন ১২ হাজার ১২৮ ভোট।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র প্রার্থী) মাসুদুর রহমান  মন্টু নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন আট হাজার ১১২ ভোট।

আর ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি প্রার্থী আতিয়ার রহমান পেয়েছেন তিন হাজার ৯৬৬ ভোট।

ঝালকাঠি

ঝালকাঠি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলী তালুকদার বিজয়ী হয়েছেন।

রোববার রাত ৯টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ড. মিজানুর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

নৌকা প্রতীকে ১৭ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন লিয়াকত আলী।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেন নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯১৪ ভোট।

বিএনপির প্রার্থী অনাদী দাস ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ৭৯৭ ভোট।

ফেনী

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন।

রোববার রাতে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে আট হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জামাল উদ্দিন সেন্টু পেয়েছেন ৮৫০ ভোট। কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির অভিযোগে তিনি ভোট শুরুর দুঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন বর্জন করেন।

কক্সবাজার

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৩৫২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম হায়দার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন আট হাজার ৮৪৫ ভোট।

পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়।

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মকছুদ মিয়া নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার রাতে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৩০৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সরওয়ার আজম পেয়েছেন ৬ হাজার ৩২৪ ভোট।

কুমিল্লা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক বিজয়ী হয়েছেন।

রোববার ভোট গণনা শেষে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় বলে জানান কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম।

আব্দুল মালেক নৌকা প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (ছোট নয়ন) জগ প্রতীক নিয়ে  পেয়েছেন ১১৩৪ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন আওয়ামী লীগের নায়ার কবির।

রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. বশিরুল হক ভূইয়া ভোটের ফল ঘোষণা করেন।

নৌকা প্রতীকে নায়ার কবির ৬০ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি পেয়েছেন ৭ হাজার ৩২৮ ভোট।

এছাড়া জাতীয় পার্টির মো. আনিছ খান পেয়েছেন ৭৩৭ ভোট, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা মো. ইউসুফ ভূইয়া পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৭৫ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮৬ ভোট।

ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভা মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবু ফয়েজ মো. রেজা নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম তাকে মেয়র ঘোষণা করেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি ১০ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে চতুর্থ বারের মত ভাঙ্গা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ভাঙ্গা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মুন্সী জগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন সাত হাজার ১২৪ভোট।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৬২২ জন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে