আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ১৩:১৮

থানায় হামলার বিনিময়ে চট্টগ্রামে ছাড়া পেলো ছাত্রলীগ নেতা

বিডিটাইমস ডেস্ক
থানায় হামলার বিনিময়ে চট্টগ্রামে ছাড়া পেলো ছাত্রলীগ নেতা

চট্টগ্রামে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহিম জিল্লুকে আটক করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জিল্লুর অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাংচুরের পাশাপাশি সদরঘাট থানায় হামলা চালিয়েছে।  তারা থানা থেকে জিল্লু ও তার স্ত্রীকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।  

১৯ মার্চ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় আল ইসলামিয়া হোটেলে এ ঘটনা ঘটেছে।

সদরঘাট থানার উপ-পরিদর্শক বাবলা চৌধুরী বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমকে বলেন, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আল ইসলামিয়া হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকের পর জানা যায় তারা স্বামী-স্ত্রী। তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর করেছে। পরে ছাত্রলীগ নেতাদের জিম্মায় জিল্লু ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিয়ে হলেও জিল্লু’র স্ত্রীকে এখনও ঘরে উঠিয়ে নেয়া হয়নি।  তার স্ত্রী আল ইসলামিয়া হোটেলের সামনে বিকেলে দেখা করতে আসেন।  এসময় কথাবার্তা বলার জন্য জিল্লুর তাকে হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে গেলে ম্যানেজার তাকে ২০১ নম্বর কক্ষে বসার ব্যবস্থা করে দেন। এসময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের আরও দুই নেতা ছিল।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ওসি মইনুল ইসলাম ভূঁইয়া হোটেলে প্রবেশ করেন।  ২০১ নম্বর কক্ষে জিল্লুরদের দেখে তিনি রেগে যান।  ‘আমার রুমে বাইরের লোক কেন’ এমন চিৎকার-চেঁচামেচি করে তিনি ম্যানেজারকে মারধর শুরু করেন।  এসময় জিল্লু গিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন ওসি।

সদরঘাট থানা নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের কার্যালয়ের ভেতরে।  এর প্রবেশপথেই আছে পুলিশ ক্যান্টিন।

ক্যান্টিনের ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকজন যুবক মিছিল নিয়ে এসে ক্যান্টিনে ভাংচুর করে।  তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।  আমি দরজা বন্ধ করতে চেয়েছিলাম।  কিন্তু সময় পাইনি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ট্রাফিক বিভাগের একটি রেকারও ভাংচুর করে।  এছাড়া ট্রাফিক বিভাগের একটি সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদরঘাট থানার কয়েকজন উপ-পরিদর্শক জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সদরঘাট থানায় বড় বড় ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারেন।  তারা লকআপে ঢুকে জিল্লুকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

এছাড়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সদরঘাট কালিবাড়ী মোড় এবং সিটি কলেজের সামনেও বিভিন্ন গাড়িতে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।  এসময় আতংকে পুরো এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে নগর পুলিশের কোতয়ালি জোনের সহকারি কমিশনার মো.মঈনউদ্দিন সিটি কলেজে যান।  কলেজের ছাত্র সংসদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেন।  সেখানে জিল্লু তাকে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।  ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা ওসি মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

 

উপরে