আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২২
বরিশালে ইউপি নির্বাচন

নেতা শুন্য বিএনপি, শেষ মুহুর্তে মাঠ দাপাচ্ছেন আ’লীগের শীর্ষ নেতারা

বরিশাল প্রতিনিধি
নেতা শুন্য বিএনপি, শেষ মুহুর্তে মাঠ দাপাচ্ছেন আ’লীগের শীর্ষ নেতারা

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুসারে প্রথম ধাপে আগামী ২২মার্চ বরিশাল জেলার ৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০ মার্চ মধ্যরাতে সকল ধরনের প্রচারণা শেষ হবে। বিজয়ী হতে সকল প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে যাচ্ছে ভোট প্রার্থনা করতে।

আওয়ামীলীগ পন্থী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার পাশাপাশি চলছে উঠান-বৈঠক। আর এতে যোগ দিচ্ছেন বরিশালের শীর্ষ পর্যায়ের আওয়ামীলীগ নেতারা। তারা দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পিছু ছাড়ছে না ভোটারদের।

কিন্তু টেনশনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। কারন বরিশালের ৫০০ হেভিওয়েট বিএনপি নেতারা জাতীয় কাউন্সিলে যোগদিতে সকলে পারি জমিয়েছেন ঢাকায়। প্রচারণায় শীর্ষ কোন বিএনপি নেতাকে পাশে পাচ্ছেন না দল ঘোষিত প্রার্থীরা। এমনকি তৃনমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতারাও ঢাকায় পারি জমানোর কারণে বেশ দ্বিধাবিভক্তিতে পড়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থীরা।

২০মার্চ মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ করে ২২মার্চ ভোটযুদ্ধে নামবেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। এখন প্রত্যেকটি ইউনিয়নেই চলছে শেষ সময়ের প্রচারণা। আর এই প্রচারনায় বিএনপি প্রার্থীদের পাশে কোন নেতারা না থাকায় সকলেই বেশ দ্বিধাবিভক্তিতে।

শনিবার বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। আর এ কাউন্সিলে ভোট দেয়ার জন্য বরিশাল মহানগরের ১৫০জন বিএনপি নেতা, বরিশাল জেলা উত্তরের ১৫০ জন ও জেলা দক্ষিনের ২০০জন বিএনপি নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন। শুক্রবারই এসব নেতারা ঢাকায় পৌঁছেছেন। এক কথায় এখন বিএনপি নেতা শুন্য বরিশাল মাঠ। আর তাই শেষ সময়ের প্রচারণা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বরিশালে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আর নির্বাচনের দিনও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে পাবেননা এমন শংকায়ও রয়েছেন অনেক প্রার্থী।

তবে এ সুযোগে মাঠ বেশ চাঙা করে রেখেছেন আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। কারন তাদের পাশে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। বরিশাল জেলার ৭৪টি ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে শেষ সময়ের প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন।

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। টার্গেট দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা। তারা কোথাও করছেন উঠান বৈঠক আবার কোথাও করছেন পথসভা। দলীয় নেতাদের এমন পাশে পেয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা।

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আরিফুজ্জামান মুন্না বলেন, শেষ সময়ের প্রচারণা বেশ ভালোভাবেই চলছে। ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। আর দলীয় শীর্ষ নেতাদের পাশে দেখে সাধারণ মানুষ সরকারের উন্নয়নের বিষয়টি আরো ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারছেন। তাই আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেন, শেষ সময়ের প্রচারণার গুরুত্ব রয়েছে অনেক। আর এমন সময় দলীয় শীর্ষ নেতাদের পাশে পেলে আরও ভালো মনোবল পাওয়া যেত। তাছাড়া জাতীয় কাউন্সিল নির্বাচনের আগে হয়ে দলীয় প্রার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কারণ তৃনমূল পর্যায়ের নেতারাও এলাকায় না থাকায় অনেক মাঠ সেই ভাবে দাপাতে মারছেন না তারা।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বরিশাল জেলা মহানগর বিএনপির ৫শ নেতা জাতীয় কাউন্সিলের জন্য ঢাকায় এসেছেন।  কারণ এরা সকলেই কাউন্সিলর। আর কাউন্সিলে আসার পূর্বে সকলেই দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় মাঠে ছিলেন। আবার কাউন্সিল শেষ হবার পর অনেকেই চলে যাবেন। শেষ সময়ে প্রচারণায় অংশ নিতে না পারলেও নির্বাচনের দিন তাদের সকলকেই মাঠে থাকতে হবে।

আওয়ামীলীগ নেতা কর্নেল(অবঃ) জাহিদ ফারুক শামিম বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমাদের প্রার্থীরা বরিশালের সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদে বিজয়ী হয়েছিলো। এবার আশা করছি শতভাগ বিজয়ী হবে। কারণ বর্তমান সরকার তৃনমূলে যে উন্নয়ন করেছে তা এ দেশের ইতিহাসে কেউ করতে পারেনি।

আর এ কারনেই এ বিষয়টি ভোটারদের কাছে তুলে ধরছি। তাই দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছি। আর শেষ সময়ের প্রচানায় বরিশালের শীর্ষনেতাসহ তৃণমূলের সকল নেতারাই রয়েছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে