আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১২:৫৪

সাতক্ষীরার আম যাবে ইউরোপে, বাগানে চলছে পরিচর্যা

বিডিটাইমস ডেস্ক
সাতক্ষীরার আম যাবে ইউরোপে, বাগানে চলছে পরিচর্যা

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান। কোথাও কোথাও গুটি ধরেছে মুকুলে। চলছে নিবিড় পরিচর্যা। সবকিছু ঠিক থাকলে এবারও সাতক্ষীরার হিমসাগর, ল্যাংড়া, মল্লিকা যাবে উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এ লক্ষ্যেই  কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর কীটনাশকমুক্ত আম উত্পাদনে চোখে ঘুম নেই বাগান মালিকদের। কেননা গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমের মুকুল। যদিও এতে রপ্তানি ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি বাগানেই পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন একাধিক কর্মচারী। কেউ স্প্রে করছেন, কেউবা ব্যস্ত গাছের দুর্বল ডাল ছেঁটে দিতে। শুধু বাগান মালিক বা কর্মচারী নয়, রপ্তানিযোগ্য আম উত্পাদনে সার্বক্ষণিক তদারকিতে ব্যস্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে সাতক্ষীরায় উত্পাদিত আম বেশ সুস্বাদু। একই কারণে অন্যান্য জেলার তুলনায় এ জেলার আম পাকে অনেক আগে। তাই এর কদর দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারেও বেড়েছে। গত মৌসুমে জেলার ৩ হাজার ৬২১ হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার ১শ’ টন আম উত্পাদন হয়েছিল। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সাতক্ষীরা থেকে ২৩ টন আম রপ্তানি হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমি আম উত্পাদনের আওতায় এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি এড়ানো গেলে এ মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে আম রপ্তানির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাগান মালিক আবু জাফর সিদ্দিকী জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আমের মুকুলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এখন চলছে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা। যে পরিমাণ গুটি দাঁড়িয়েছে, তা থাকলেও ভালো উত্পাদন হবে। আম রপ্তানি করতে পারবো।   সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, প্রকৃতির আশীর্বাদে সাতক্ষীরায় আম পাকে সবার আগে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রপ্তানিমুখী উত্পাদনে সাতক্ষীরার আমবাগানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে।

উপরে