আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫২
ঘটনাটি ভুলতে পারছেন না উদভ্রান্ত মা

‘শিশুটিকে শুন্যে ঝুলিয়ে পেটে ঢুকিয়ে দেয়া হল ছুড়িটি’

জ্ঞান ফিরেলেও শঙ্কা যায়নি
বিডিটাইমস ডেস্ক
‘শিশুটিকে শুন্যে ঝুলিয়ে পেটে ঢুকিয়ে দেয়া হল ছুড়িটি’

‘শাহজাহান এসেছিলো আমার স্বামীকে মারতে। তাকে না পেয়ে হটাৎ করেই প্রতিবেশীর কোলে থাকা আমার ১৭ মাসের মেয়ে বিথিকে কেড়ে নেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিথির এক হাত ধরে শুন্যে ঝুলিয়ে পেটের মধ্যে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। ছুরিটি ওর পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায়ই বিথিকে ছুড়ে ফেলে শাহজাহান চলে যায়।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে এভাবেই রোববারের সেই নারকীয় বিভৎস ঘটনাটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন বিথির মা বিউটি বেগম।

নান্দাইলে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সংঘটিত এই ঘটনাটি ভুলতে পারছেন না তিনি। এখনও ক্ষনে ক্ষনে শিউরে উঠছেন। গালে শুকিয়ে যাওয়া কান্না রেখা। উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন। এই বুঝি কেউ আবার এলো তার মেয়েকে মারতে। এদিকে ডাক্তাররা বলছেন শিশুটি বেচে গেলেও তার অবস্থা এখনও শংকামুক্ত নয়।

গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ও সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসার মো. শাহ আলম তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিভাবে শিশুটি বেঁচে গেলে এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। ছুরির আঘাতে তার অন্ত্রের কয়েক জায়গায় ছিদ্র হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পাকস্থলিও। ৪/৫দিন না গেলে কিছুই বলা যাবে না। সে এখন হাসপাতালের শিশু বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষন কেন্দ্রে রয়েছে। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরলেও তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে’।  

এদিকে বিথির জ্ঞান ফিরে আসায় এলাকার মসজিদ ও উপশনালয়ে প্রার্থনা করেছে গ্রামবাসি। আর ঘরবাড়ি তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে শাহজাহান ও পরিবার। এ ঘটনায় রবিবার রাতেই অভিযুক্ত শাহজাহান ব্যাপারীসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি মামলা করেছেন বিথির বাবা দ্বীন ইসলাম ধীরু।

তিনি জানান, ‘ব্যবসার শেয়ার দেওয়ার কথা বলে শাহজাহান প্রায় ৫ বছর আগে তাঁর পৈতৃক জমিজমা বিক্রি করিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর থেকেই সে লাপাত্তা। টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে প্রাণনাশের ভয় দেখাত। এখন মামলা করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি’।

নান্দাইল থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, গতরাতে নান্দাইল সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। শাহজাহানকে ধরতে মোবাইল ট্রেকিং সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে শিশুটির মা-বাবাকে সার্বিক নিরপত্তা দেওয়া হয়েছে।

নান্দাইল পৌরসভার দক্ষিণ চণ্ডীপাশা এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল দীন ইসলাম ও তাঁর ফুপাতো ভাই শাহজাহানের। তাঁদের পারিবারিক বিরোধেই রবিবার সকালে বিথিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ছুরিবিদ্ধ বীথিকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে রবিবার দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছুরিটি বের করা হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে