আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩৫

কক্সবাজারে কার্গো বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

বিডিটাইমস ডেস্ক
কক্সবাজারে কার্গো বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

কক্সবাজারে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ‘ট্রু এভিয়েশনের’ একটি পরিবহন (কার্গো) বিমান সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট ও কো-পাইলটসহ তিন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহতরা হলেন- পাইলট ক্যাপ্টেন মুরাদ গাফারভ, কো-পাইলট ইভান বেতরভ এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ আন্দ্রে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন নেভিগেটর ভ্লাদিমির কুলতানভ। তারা সবাই ইউক্রেনের নাগরিক।

বিধ্বস্ত বিমানে থাকা ৪ জনের মধ্যে প্রথমে ২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের একজন মৃত। আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা ৪ জনই ইউক্রেনের নাগরিক।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিখোঁজ দু’জনের লাশ বিধ্বস্ত বিমানটির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ভাটার টানে পানি কমে গেলে বিমানটির ভেতর থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। তারা হচ্ছেন পাইলট ইয়ানড্রি (৩৮) ও ইউক্রেনের মুসলিম বৈমানিক মুরাদ (৩৫)।

বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ‘ট্রু এভিয়েশন পরিবহনের’ এন-২৬ মডেলের একটি কার্গো বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা কার্গোটি ডুবে যাওয়ার সময় ৪ জনের মধ্যে দুই জনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার হওয়া ফাস্ট ক্যাপ্টেন ইভিয়ান (৩৫) ও নেভিগেটর কুলতানভকে (৪০) কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার নেভিগেটর কুলতানভকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ইভিয়ানকে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনিও গুরুতর আহত। মাথা এবং বাম পায়ে মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি।

কার্গো বিমানটির পরিচালনাকারি সংস্থার স্বত্বাধিকারি কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক জানান, বিমানটি যথারীতি চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বুধবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের সময় কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। এসময় বিমানটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফেরত আসতে চেয়েছে কিন্তু সাগরেই বিধ্বস্ত হয়।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মোহন্ত জানান, কার্গো বিমানটি যশোরের দিকে উড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েক চক্কর দিয়ে সাগরে বিধস্ত হয়। এর কারণ এখনো জানা যায়নি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন চৌধুরী বলেন, আহতজন সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র মতে, কক্সবাজার যশোর রুটে চিংড়ি পোনা পরিবহণে নিয়োজিত সবক’টি কার্গো বিমান অনেক পুরোনো এবং প্রায়ই এসব কার্গো বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি লেগে থাকতে দেখা যায়। কয়েক বছর পূর্বে এরকম তিনটি বিমান কক্সবাজার বিমান বন্দরে ফেলে চলে যায় এর মালিক পক্ষ। পরে এসব বিমান পরিত্যক্ত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে