আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১৪

সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে মা চালান রিকসা! (ভিডিও)

বিডিটাইমস ডেস্ক
সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করতে মা চালান রিকসা! (ভিডিও)

তিন সন্তানকে রেখে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। ভরণ-পোষণ দেয়া তো দুরের কথা খোঁজ রাখেন না জেসমিন বা তার সন্তানদের। তাই বলে বসে থাকার পাত্রী নন জেসমিন।

সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেয়া আর উচ্চশিক্ষিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে শুরু করেন বাসা বাড়িতে কাজ। কিন্তু তাতে সন্তানদের মুখে দু-বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে পারলেও পারেন পড়ালেখার খরচ জোগাতে। তাই বলে বসে থাকার পাত্রী নন তিনি।

সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে নিজের হাতে তুলে নেন রিকসার হ্যানডেল।

সেই শুরু, দীর্ঘ ১৫ বছর একটানা রিকসা চালিয়ে জীবন সংগ্রামের এক অগ্র সেনানী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জেসমিন।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে একজন মহিলা রিকসা দাঁপিয়ে বেড়ান প্রতিদিন। তিনি হচ্ছেন জেসমিন বেগম।

রিকসা চালানো শুরু করলে শুরুর দিকে অনেকেই নানান রকম কথা বললেও এখন অনেকেই এই জীবন সংগ্রামের জন্য তাকে বাহবা দেন বলে জানান জেসমিন।

প্রথমে প্যাডেলে চালানো রিকশা, আর এখন ব্যাটারি চালিত রিকশা। রিকশা চালানোর মতো কষ্টের কাজ তার কাঁধ সহ্য করতে পারেনা। কিন্তু মন তার পাথর কঠিন। সন্তানদের শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিদিনই রাস্তায় নামেন।

গল্পেই জানালেন, অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আর কটুক্তি সহ্যও করেছেন। কিন্তু আজ সবাই তাকে সম্মান করে, স্যালুট করে। আঁচলে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে জেসমিন জানালেন, স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিলেন। সন্তানদের মুখে দু’বেলা দু`মুঠো ভাত জোটাতে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেছেন। কিন্তু তাতে করে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার হয়তো চলতো, কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য লেখা পড়া করানোটা হতোনা। তাই অনেক ভেবে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে।

শ্রমজীবী পুরুষ রিকশা চালকদের রাজ্যে একক সম্রাজ্ঞী জেসমিন। অদম্য প্রাণশক্তি আর এগিয়ে চলার ইচ্ছা তাকে চালাচ্ছে। আর তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন ৪ সদস্যের সংসার।

জেসমিন সংগ্রামী, সংগ্রাম করছেন-তবে চাওয়া খুবই কম। নিজের একটা রিকশার স্বপ্ন তার।ত্রিশ হাজার টাকার তিন চাকার রাজত্বে রাণী হওয়ার স্বপ্ন চোখজুড়ে। বিলাসী জীবন নয়, নিজের যানে নিজে আয়ের কথা বলতে বলতে চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি পড়ে। দ্রুতই তা মুছে ফেলেন। হাসির চেষ্টা করে বলেন, ভাইয়া শরীরটা আর পারেনা। রাতে কাঁধ আর কোমর ব্যথায় ঘুমাতে পারিনা। সন্তানদের মুখ চেয়ে সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়ে যাই। দেখি কত দিন পারি!

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরক

উপরে