আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১৯

রোহিঙ্গারা স্থায়ী হতে বিয়ে করছে বাঙালীদের, টার্গেট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা!

বিডিটাইমস ডেস্ক
রোহিঙ্গারা স্থায়ী হতে বিয়ে করছে বাঙালীদের, টার্গেট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা!

বিভিন্ন সময় মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গারা এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বিয়েকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে। আর এজন্য তারা টার্গেট করছে বাঙালী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।আর এ কাজে সহযোগীতা করছে এদেশীয় কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি ও বিয়ের কাজীরা।সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এমনি তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৮ সাল থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা এই দেশে বানের পানির মতো প্রবেশ করতে থাকে। পর্যায়ক্রমে সীমান্ত রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করা এই সব রোহিঙ্গারা শরণার্থী হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফ নয়াপাড়া, মুছুনি, কুতুপালং, খুনিয়াপালং, হলদিয়া পালং, জুম্মা পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করে। 

পরবর্তীতে দুদেশের কুটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা স্বদেশে ফিরে গেলেও এখন ও প্রায় ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফ নয়াপাড়া, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এছাড়াও প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার, টেকনাফ, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়িয়া সবুজ বনায়ন ধ্বংসপূর্বক জবরদখল করে বসবাস করছে। 

ওই সব রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে ইউএনএইচসিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশী পরিচয়ে ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি কিনে এবং সরকারি বনভূমি দখল করে অবৈধ ভাবে বসবাস করে আসছে।

বাংলাদেশ সরকারের ২০১৪ সালে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা-বাঙ্গালী বিয়ে নিষিদ্ধ করে উপজেলা প্রশাসনগুলোকে সর্তক করে এবং রোহিঙ্গা-বাঙ্গালী বিয়ের সাথে জড়িতদের শাস্তির বিধান করা হলেও সেই আইনকে তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বিয়ের কাজ।

জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে অবস্থানরত আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রোহিঙ্গারা বিশেষ করে উখিয়ার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিয়ে করার মিশনে নেমেছে। বিদেশ থেকে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অজ্ঞতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাকার প্রলোভন এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশ নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের বিয়ে করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা যেকোন উপায়ে শিক্ষিত মেয়েদের বিয়ে করার জন্য টার্গেট করছে। 

এছাড়াও রোহিঙ্গারা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নকল আইডি কার্ড ও জন্ম সনদ পত্র তৈরি করে বিয়ে নিবন্ধনেরও চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। 
উখিয়ার কাজী অফিসের বিয়ে নিবন্ধনকারী মোঃ হারুন জানান, অনেক মিয়ানমার প্রবাসী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী স্কুল কলেজ ছাত্রীদের সাথে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে এলেও উখিয়া কাজী অফিসে বিয়ে নিবন্ধন করেন না এবং প্রশাসনকেও এইসব বিয়ের ব্যাপারে অবহিত করেন না।
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

 

উপরে