আপডেট : ৮ মার্চ, ২০১৬ ১৬:১০

এক বা দুজন নয় যে পরিবারের সবাই ‘বৃক্ষ মানব’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বা দুজন নয় যে পরিবারের সবাই ‘বৃক্ষ মানব’!

খুলনার আবুল বাজানদারের পর এবার একটি পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যে পরিবারের সকল সদস্যই বৃক্ষ মানব সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। তাদের পূর্বপুরুষের শরীরেও এ রকম উপসর্গ ছিল বলে জানা গেছে। এর ফলে কোন কাজ করতে না পারায় ভিক্ষাবৃত্তিকেই পেশা হিসাবে বেঁচে নিতে হয়েছে তাদের।

তাদের বাড়ী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর কালসার ডাড়া এলাকায়।

আক্রান্তরা হলেন, তাজুল ইসলাম (৫০), তার ভাই বাছেদ আলী (৫৪), তার ছেলে রুহুল আমিন (১২),রুহুল আমিন (১০)। ইতোমধ্যেই বাছেদ আলীর দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাজুল ইসলাম। তাজুলের বাবা আফাজ উদ্দিন মুন্সিও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার কাছে শুনেছি, আমার জন্মের দুই মাস পরই হাত ও পায়ের নখগুলো বড় হতে থাকে। ধীরে ধীরে তা গাছের শিকড়ের মতো বের হয়ে আসে। দিন যতই গড়াচ্ছে, নখগুলো ততই বড় হচ্ছে। আমার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও রুহুল আমিন। রুবেল সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও রুহুল আমিন হাত-পায়ে বড় বড় নখ নিয়ে জন্ম নেয়। এখন রুহুল যতই বড় হচ্ছে, শিকড়ের মতো গজানো নখগুলোও বড় হচ্ছে। আমরা বাবা ও ছেলে অন্যের সাহায্য ছাড়া কখনোই নিজের হাতে খেতে পারি না। ছেলের মা আমাদের দুজনকে খাইয়ে দেন। কখনো কখনো চামচ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি।’

চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল বলেন, ‘দুই বেলা খাবারই জোটে না, চিকিৎসা করাব কী দিয়ে? ভিক্ষা করে যা পাই, তা দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি।’ জানালেন, রংপুরের বিভিন্ন স্থানে বিনা মূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। চিকিৎসকরা বলেছেন, তাঁর হাত ও পা কেটে ফেলতে হবে। তাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এখন যেভাবে বেঁচে আছি, তাতে বাকি দিনগুলো ভিক্ষা করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দুই বেলা খাবার জোটাতে পারব। কিন্তু হাত-পা কেটে ফেললে ওদের মুখে খাবার দেব কিভাবে?’

এমন পরিস্থিতির জন্য তাজুলের স্ত্রী রুবি বেগম ভাগ্যকে দায়ী করেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘সংসারের দুইজন নাম-না-জানা অসুখে ভোগায় মাইনসে মোকও কামোত (কাজে) নিবার চায় না। অসুস্থ শরীলে বাপ-বেটার ভিক্ষার আয়ে কোনোমতে দিন যায়।’ স্বামী ও ছেলের পরিচর্যায় দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায় বলে জানান রুবি বেগম।

স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হাত দুটো কোনো রকম নাড়াচাড়া করতে পারলেও পা দুটোর ওজন অনেক। উঁচু করতে পারি না, খুব কষ্ট হয়। হাতের চেয়ে পা দুটোর অবস্থা খুব খারাপ। খুব জ্বালাপোড়া করে। তীব্র ব্যথায় আমি ও রুহুল আমিন ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। হাত ও পায়ের নখ কাটলেই রক্ত বের হয়ে আসে। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। পরিশ্রম করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে চাই।’ নিজের ও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এলাকার সংসদ সদস্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সমাজের দানশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আবেদন জানান তাজুল।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে