আপডেট : ৭ মার্চ, ২০১৬ ২৩:০৮

রাজশাহীতে শিক্ষক ও সাংবাদিককে পেটালেন ব্যাংকের আনসার সদস্য

বিডিটাইমস ডেস্ক
রাজশাহীতে শিক্ষক ও সাংবাদিককে পেটালেন ব্যাংকের আনসার সদস্য

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর তানোর সোনালী ব্যাংক শাখার আনসার সদস্য গোলাম মোস্তফা পেটালেন এক সাংবাদিক ও শিক্ষককে। প্রহৃতরা হলেন তানোর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনি ও তানোর বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বকুল হোসেন।

সোমবার দুপুরে সোনালী ব্যাংক তানোর শাখার ম্যানেজার জিল্লুর রহমানের সামনে তার চেম্বারে এ মারপিটের ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, সোমবার সকালে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক বকুল হোসেন ও কারিগরি কলেজের শিক্ষক লুৎফর রহমান সোনালী ব্যাংক তানোর শাখায় বেতন উত্তোলনের জন্য আসেন। কিন্তু সোনালী ব্যাংকের দারোয়ান আনসার সদস্য গোলাম মোস্তফা ও হান্নান মির্জা প্রিন্সিপাল অফিসার শরিফুল ইসলামের ইশারায় কমিশন দাবি করলে শিক্ষকরা দিতে না চাইলে শিক্ষকে গলা ধাক্কা দিয়ে ব্যাংক থেকে বের করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে নিরুপায় শিক্ষকরা তানোর প্রেসক্লাবকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তানোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাঈদ সাজু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম, সাংবাদিক আলিফ হোসেন, উপজেলা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সবুর, সাংবাদিক শরিফুলসহ বেশ কয়েকজন ম্যানেজারের কার্যালয়ে এসে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান।

কোন কিছু বুঝে উঠার আগে প্রিন্সিপাল অফিসার শরিফুল ইসলাম ও সিনিয়র অফিসার সারোয়ার হোসেনের ইশারায় জেএমবি আনসার সদস্য গোলাম মোস্তফা ও হান্নান মির্জা শিক্ষক বকুল হোসেনকে কলম স্কেল এবং তাদের কাছে রাখা দেশীয় অস্ত্র ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

এ সময় সাংবাদিক মনিরুজ্জামান এগিয়ে আসলে তার বাম কানে কলম ঢুকিয়ে ও অস্ত্র  দিয়ে কানের পর্দার হাড় ফাটিয়ে দেন। পরে  আহত মনিরুজ্জামানকে তানোর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাকেম হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম মোস্তফা নামের আনসার সদস্যের বাড়ি নওগাঁ জেলার পানিসাল গ্রামের অসিমুদ্দীনের পুত্র তিনি। অতীতে জেএমবির সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। জেএমবির নাম ঢাকতে অধিক টাকার বিনিময়ে আনসার সদস্য নিয়োগ পান। তিনি ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর এ ব্যাংকে দারোয়ান হিসেবে যোগদান করেন। আরেকজন আনসার সদস্য হান্নান মির্জা। তিনি ঢাকা ধামরাই থানার তালতলা গ্রামের আজিজ রহমানের পুত্র। তিনি

একাধিক মামলার আসামি এবং মির্জা আব্বাসের সক্রিয় অস্ত্রধারী ক্যাডার বলে জানা গেছে। তিনি ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকে যোগদান করেন।

এ ব্যাপারে ব্যাংক ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, আমার রুমে এসে এভাবে আনসার সদস্যরা মারপিট করবে এটা কল্পনা করিনি। তাদেরকে এখান থেকে বদলি করা হবে।

ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনা পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা হলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এ ঘটনায় উপজেলার পুরো সাংবাদিক ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবিলম্বে জেএমবি আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা না হলে সোনালী ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবেন বলে জানান তানোরের সাংবাদিক ও শিক্ষকরা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে