আপডেট : ৫ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩৩
আটক কৃষক থানায়

চাষ করেছিলেন আলু, ফল বের হলো পপি, বীজ দিয়েছিলেন মেম্বার

বিডিটাইমস ডেস্ক
চাষ করেছিলেন আলু, ফল বের হলো পপি, বীজ দিয়েছিলেন মেম্বার

চাষী মোকছেদুল ইসলামের নিজের জমি নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে খোকা মেম্বারের জমি বর্গা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করে থাকেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এ বছর মেম্বারের দেয়া সবজি চাষ করেন মোকছেদুল। আলু ভূট্টার সঙ্গে নতুন একটি ফসলের বীজ দিয়ে খোকা মেম্বার বলেছেন, ‘ফসল কী হয় হোক, চাষ কর, তোর ভালো লাভ হইবে।’

কিন্তু এই লাভের ফসলই যে তাকে চৌদ্দ শিকের ভাত খাওয়াবে সেটা জানতেন না তিনি।

মেম্বারের দেয়া ফসলের বীজগুলো ছিল নিষিদ্ধ পপি ফলের বীজ। যা থেকে কয়েক কোটি টাকার সর্বনাশা মাদক হেরোইন উৎপাদন সম্ভব। এক সপ্তাহ পরে পপি গাছ গুলো কাঁটার উপযোগীও হবে। কিন্তু তিনি নিজেও জানেন না অল্প সময়ের মধ্যে যে ফসলটি তিনি ঘরে তুলতে যাচ্ছেন সেটি আসলে কি?

আর এ নিষিদ্ধ পপি গাছ ফলানোর অপরাধে মোকছেদুল ইসলাম নামের ওই চাষীকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম সোনারপাড়া। এখানেই চাষী মোকছেদুল ইসলাম ৪০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে চাষ করেছেন পপি ফল। কিন্তু এটি যে পপি গাছ তা জানতেন না উল্লেখ করে মোকছেদুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার শফিউল ইসলাম ওরফে খোকা মেম্বারের জমি বর্গা নিয়ে আলু ও ভুট্টার পাশাপাশি অন্তত ৪০ শতক জমিতে অজানা এ ফসলের চাষ করেছেন।

তবে জমির মালিক খোকা মেম্বার বলেন, ‘আমিও সঠিক জানি না ওগুলো পপি কি না। এক ব্যক্তি পোস্তদানা হিসেবে ওই বীজ দিয়েছে। জমি পতিত থাকায় অন্য ফসলের পাশাপাশি পোস্তদানা চাষ করতে বর্গাচাষিকে পরামর্শ দিয়েছি।’

বদরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমকে বলেন, সোনাপাড়া গ্রামে পপি ফলের চাষ হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার আমরা সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানের মোকছেদুল ইসলামের জমিতে পপি ফল চাষের সত্যতা পাওয়ায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও ঘোড়াঘাটের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এ ছাড়া এসব এলাকার অনেক স্থানেই নিষিদ্ধ পপির চাষ হচ্ছে নির্বিঘ্নে।

প্রায় দেড় বছর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ও জয়পুর এলাকায় নিষিদ্ধ পপিক্ষেতের সন্ধান পেয়েছিল প্রশাসন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ক্ষেতেই তা নষ্ট করা হয়। এর পরও মাদক চোরাচালানিরা নেপথ্যে থেকে এসব প্রত্যন্ত এলাকায় সহজ-সরল কৃষককে ধোঁকা দিয়ে ভিন্ন ফসলের কথা বলে পপি চাষ করাচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে