আপডেট : ৪ মার্চ, ২০১৬ ২১:৫৪

ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিডিটাইমস ডেস্ক
ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিমসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা করেছে পুলিশ। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মচারীকে মারধর ও নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়াসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

ফুলগাজী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও আরও ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে এসআই আশিকুল ইসলাম ফুলগাজী থানায় মামলা করেছেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান আবদুল আলিম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের জন্য নিজেদের পছন্দের তালিকা প্রদান, এর বাইরে অন্য কাউকে মনোনয়নপত্র বিতরণে বাধা, নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মচারীকে মারধর এবং নির্বাচন কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার নির্বাচন কার্যালয় ঘিরে রাখে সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। তার আগে থেকেই চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের লোকজন জেলা প্রশাসকের দপ্তরের বাইরে অবস্থান নেন। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কয়েকজন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গেলে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় মারধর করা হয় ফুলগাজীর জিএম হাট ও আনন্দপুর ইউপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী খোরশেদ আলম ও মো. ফখরুদ্দিনকে। তাঁদের মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া একই দিন ফুলগাজী উপজেলা সদরে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে ভাঙচুর চালানো হয়। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আমিন আল আহসানের কাছে অভিযোগ করা হয়।
এসব ঘটনায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ ফরিদ কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন। কমিশন অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর দুপুরে ফুলগাজীর সব কটি ইউপির (আমজাদ হাট, দরবারপুর, ফুলগাজী, জিএম হাট, মুন্সিরহাট ও আনন্দপুর) নির্বাচনের তফসিল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরখাস্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরই পুলিশের তরফ থেকে ওই মামলা করা হলো।

উপরে